৫০০০ টাকার বেশি অর্ডার করলেই ফ্রি ডেলিভারি।
English
You can use WPML or Polylang and their language switchers in this area.
0 $0.00

Cart

No products in the cart.

কখন বুঝবেন আপনার সঙ্গীর সঙ্গে ব্রেকআপ করা উচিৎ

break op

একটি সম্পর্ক শুরু হওয়ার সময় দুটি মানুষের মধ্যে থাকলেও একটি সময় পর সেটি আমাদের পরিবার, বন্ধু-বান্ধবসহ পরিচিত সকলের কাছেই সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সাথে সাথে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ থাকা দুটি মানুষও একে অপরের নিকট সমান ভাবে গুরুত্ব পেতে শুরু করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এমন কিছু পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে যেখানে আমাদের সঙ্গীর সঙ্গে ব্রেকআপ করা ছাড়া আর কোন উপায় অবশিষ্ট থাকে না।

কোন সম্পর্কের অবসান ঘটানো কারো পক্ষেই সহজ কাজ নয়। আপনার সঙ্গীর বদলাতে থাকা ব্যবহার আর আপনার প্রতি অনীহা এবং এড়িয়ে চলার প্রবণতার কারণেই আপনি হয়তো এমন কিছু ভাবতে শুরু করেছেন। আমাদের জীবনে আমরা যত ধরনের খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়ে থাকি, তার মধ্যে এটিই হয়তো সবচেয়ে বেশি কষ্টদায়ক।

আর হঠাৎ করেই কোন সম্পর্ক কেউ কখনো ছিন্ন করে না। যে কোন পক্ষই যখন বুঝতে পারে যে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটছে, তখন প্রাথমিকভাবে উভয় পক্ষই চেষ্টা করে সেটিকে পুনরায় আগের মত মধুর করে তুলতে। কিন্তু এই চেষ্টা করার প্রবণতা যখন শুধুমাত্র একপক্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তখন সেই সম্পর্কের জালে আঁটকে না থাকাই শ্রেয়। চলুন তাহলে জেনে নিই ঠিক কোন সময়ে আপনার ব্রেকআপ করে নেয়া ভালো।

break op

ব্যক্তিত্ব ভিত্তিক পরিবর্তণ:

আপনাদের সম্পর্ক যতদিনের তার উপর ভিত্তি করে অবশ্যই আপনার সঙ্গীর ব্যক্তিত্ব এবং তার আচার আচরণ সম্পর্কে আপনার একটি ধারণা তৈরী হয়েছে। সম্পর্কে থাকা অবস্থায় আপনি যদি সেখানে এমন কোন পরিবর্তণ লক্ষ্য করে থাকেন, যা আপনার কাছে নেতিবাচক মনে হতে থাকে, তাহলে অবশ্যই সেটি বিবেচনা করে দেখা উচিৎ।

এ ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে আপনার সঙ্গীর আচার ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করতে থাকুন এবং নিজের কাছে প্রশ্ন করে দেখুন। আপনার সঙ্গী যদি আপনার উপর কারণে অকারণে রেগে যায় এবং আপনার ছোট ছোট ভুলগুলোও ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে নারাজ হয়, তাহলে সেটির দ্বারা আপনার প্রতি তার চরম অনীহা প্রকাশ পায়।

এছাড়া আপনার অতীতে আপনি যদি কোন ভুল করে থাকেন, যদি প্রতিনিয়ত সেগুলি নিয়ে আপনাকে কথা শোনানো বা দোষারোপ করা হয়, মোটকথা আপনাকে প্রতিনিয়ত যদি সে মানসিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে থাকে, তাহলে এটিই সঠিক সময় আপনার সম্পর্কের অস্তিত্ব নিয়ে পুনরায় বিবেচনা করার।

আপনাকে আবদ্ধ করে রাখার মানসিকতা:

একটি আদর্শ সম্পর্কে সঙ্গীরা সবসময় একে অপরকে তার স্বপ্ন পুরণের জন্য উৎসাহিত করেন এবং যথাসম্ভব সহযোগীতা করে থাকেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, সম্পর্ক তৈরীর পূর্বে অনেকেই এসব ব্যাপারে খুব আগ্রহ প্রকাশ করে থাকেন এবং একসাথে এগিয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সম্পর্কের একটা সময় তারাই দেখা যায় যে আপনার স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্খার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নেন।

নিজেদের অবস্থানে কোন পরিবর্তণ না এনেই তারা চান যে, আপনি যেন তার জন্যে আপনার সব ইচ্ছার বির্সজন দিয়ে দেন। অনেক ক্ষেত্রে এধরণের অন্যায় ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে হলেও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যায় যে, এধরনের মানুষেরা আপনি যতই আত্মত্যাগ করেন না কেন কোনভাবেই তারা সন্তুষ্ট হচ্ছে না। তাকে ভালো রাখার হাজারো প্রয়াসের পরেও শেষ পর্যন্ত দোষের ভাগটা আপনারই হবে।

আমি এটা বলছি না যে, সম্পর্কের খাতিরে ত্যাগ করা খারাপ। অবশ্যই একটি আদর্শ সম্পর্ক গঠণ করতে হলে সেখানে আত্মত্যাগ, সমঝোতার প্রয়োজন আছে। তবে সেটি অবশ্যই যৌক্তিক এবং সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়ীতার জন্য উপযোগী হতে হবে।

unhealthy relation

যেভাবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন:

আপনার সঙ্গীর মধ্যে যদি উপরের লক্ষণগুলি প্রকাশ পায়, তাহলে অবশ্যই চুড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাবার পূর্বে আরো কিছু বিষয়ের দিকে লক্ষ্য করা প্রয়োজন।

  • একজন মানুষ অপর একজনের কাছ থেকে শারিরীক এবং মানসিক সমর্থন পাওয়ার ইচ্ছার কারণেই সম্পর্ক তৈরী করে থাকে। আপনার সঙ্গীকে যখন আপনার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন যদি সে আপনার পাশে না থাকে বা বিপদের মুহুর্তে আপনাকে সমর্থন করার পরিবর্তে যদি সে উল্টো আপনাকেই দোষারোপ করতে থাকে, তাহলে এমন সম্পর্কের শেষ হয়ে যাওয়াটাই ভালো।
  • ভালোবাসার সম্পর্ক একাধিক মানুষের সাথে হয় না। আমরা একজনকেই সেই বিশেষ স্থান দিয়ে থাকি এবং তার কাছ থেকেই আদর, ভালোবাসার আশা করে থাকি। সে আপনাকে ভালোবাসে বা আপনি তার জন্য অনেক বিশেষ কিছু, এধরনের কিছু কথা একে অপরকে বলার মাধ্যমে একে অপরের প্রতি আবেগ বাড়ে এবং সম্পর্কের মধ্যে মধুরতার সৃষ্টি হয়। যদি আপনাদের মধ্যে সেটি না থাকে, তাহলে অবশ্যই সেই মানুষটির সম্পর্কে ভাবুন।
  • সময়ের সাথে সাথে সম্পর্কের মধ্যেও পরিবর্তন আসাটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই পরিবর্তনের ইতিবাচক দিকগুলি হচ্ছে আবেগ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করা বা একে অপরকে বুঝে ওঠা। আর নেতিবাচক দিকগুলি হচ্ছে একে অপরকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা বা নিজের খারাপ দিকগুলির আত্মপ্রকাশ ঘটানো এবং অন্যকে সেটি মানতে বাধ্য করার চেষ্টা করা। হঠাৎ করেই মাদক বা অ্যালকোহল গ্রহণ করা, পূর্বের গোপন করা কোন বিষয় মানতে বাধ্য করা ইত্যাদির মত ঘটনা একটি সম্পর্কের ইতি টানার জন্য যথেষ্ট।
  • আপনার সঙ্গীর মধ্যে যদি আপনার উপর শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, তাহলে সেই মুহুর্তেই আপনার তার সাথে ব্রেকআপ করে নেওয়া উচিৎ। এধরনের সঙ্গী আপনার জীবনে ভালো কিছু বয়ে নিয়ে তো আসবেই না বরং আপনার পুরো জীবনটাকেই যন্ত্রণা আর নির্যাতনে বিষিয়ে তুলতে শুরু করবে।

একটি ভালো সম্পর্ক সবার জন্যেই সুখকর, স্বাচ্ছন্দকর এবং আনন্দদায়ক। কিন্তু যখন এই জিনিসগুলিই সময়ের সাথে সাথে আপনার সম্পর্কের মধ্য থেকে উধাও হতে থাকে, তখন সম্পর্কের ইতি টানাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। তবে এধরনের সিদ্ধান্তে যাবার পূর্বে অবশ্যই সম্পর্কের ব্যর্থতা এবং তার কারণ ও প্রভাব সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা নেওয়া জরুরী।

আপনার সঙ্গীর বিশ্বস্ততার এবং আপনার প্রতি তার আন্তরিকতা কতটুকু তা প্রথমেই আপনাকে বুঝতে হবে। যদি আপনি সেটির ক্ষেত্রে নেতিবাচক কোন কিছুর প্রমাণ পেয়ে থাকেন, তাহলে হয়তো এটিই সঠিক সময় সম্পর্কটি থেকে বের হয়ে আসার। প্রতিটি মানুষেরই একটি সুন্দর জীবন যাপনের অধিকার রয়েছে। আর যখন সম্পর্কের মধ্যে সেই মধুরতা থাকে না, তখন জোর করে সেখানে আটকে থাকাটা অর্থহীন।

You might be interested in …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Our Newsletter

Receive a 30% discount on your first order