রক্ত পরীক্ষার কারণ যা-ই হোক না কেন, জীবনে একবারও রক্ত পরীক্ষা করাতে হয়নি, এমন মানুষ আদৌ কি আছে?
নাই, এবং না থাকারই কথা।
কারণ, জন্মের পর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত আমাদের প্রায় প্রত্যেকেরই অসংখ্যবার রক্ত পরীক্ষা করাতে হয়েছে।
অসুস্থ্য হলে বেশিরভাগ সময়ই যে পরীক্ষাগুলো করা হয়ে থাকে, সেগুলোর মাঝে রক্ত পরীক্ষা (Blood tests) অন্যতম। কেননা, রক্ত পরীক্ষা করেই প্রাথমিকভাবে যে কোনও রোগের লক্ষণ, অবস্থা ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া জানা যায়।
শুধু তাই নয়, আমাদের শরীরের সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা (overall status) পেতে রক্ত পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এমনকি, বডির ভেতর বড় ধরণের কোনও জটিলতা তৈরি হওয়ার আগেই সমস্যা চিহ্নিত করার জন্যে রক্ত পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়।
রক্ত পরীক্ষা করে অনেকগুলো রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। আমরা সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। তার আগে আসুন রক্ত পরীক্ষা সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য জেনে রাখা যাক-
রক্ত পরীক্ষা কি
রক্ত পরীক্ষা হচ্ছে একটা ল্যাবরেটরি অ্যানালাইসিস, যা রক্তের স্যাম্পল থেকে করা হয়ে থাকে।
এক ধরণের সুঁই (Hypodermic Needle) ও সিরিঞ্জ দ্বারা শরীরের যে কোনও স্থান থেকে, বিশেষ করে হাত ও বাহুর রক্তনালী (Blood Vessel) থেকে রক্ত সংগ্রহ করে সেটাকে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে নানা রকম অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে রেজাল্ট জানানো হয়।
রক্ত পরীক্ষা কেন করা হয়
রক্ত পরীক্ষা করা হয় মূলত রোগ নির্ণয়ের জন্যে।
এমন অনেক রোগ আছে যেগুলো প্রাইমারিলি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই ধরা পড়ে। এমনকি, বড় বড় রোগগুলোও জটিল অবস্থায় যাওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে ডিটেক্ট করা হয়।
রক্তের গ্রুপ জানার জন্যেও রক্ত পরীক্ষা করা হয়। যদি নিজের জন্যে হয়, তবে জীবনে হয়তো একবার টেস্ট করলেই চলে। কিন্তু, যদি অন্যের জন্যে হয়, তবে প্রায়ই গ্রুপ টেস্ট করার প্রয়োজন পড়ে। যেমন, রক্তদানের আগে যে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে হয়, তার মাঝে গ্রুপ জানা অন্যতম।
শরীরের খনিজ উপাদান শনাক্ত করা, ফার্মাসিউটিক্যাল ওষুধের কার্যকারিতা নির্ণয় করা এবং দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা নির্ধারণের জন্যেও রক্ত পরীক্ষা করা হয়ে থাকে।
অনেক সময় শরীরের সাধারণ অবস্থা (Overall General Health Condition) এবং জৈব রাসায়নিক অবস্থা (Biochemical State or Condition) জানার জন্যেও রক্ত পরীক্ষা করা হয়।
রক্ত পরীক্ষা কিভাবে করা হয়
যার রক্ত পরীক্ষা করা হবে তার শরীর থেকে প্রথমে একজন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ব্যক্তি রক্তের নমুনা (Blood Sample) নেবেন, যার পদ্ধতি সম্পর্কে আমরা উপরে উল্লেখ করেছি। এটাকে আবার ব্লাড ড্র’ও (Blood Draw) বলা হয়ে থাকে।
যিনি রক্ত নেন তাকে ল্যাব টেকনিশিয়ান বা ল্যাব প্রপেশনাল (Lab Professional) বলা হয়। মেডিকেলের ভাষায় বা ডাক্তারদের কাছে তিনি Phlebotomist (ফ্লেবোটোমিস্ট) নামেও পরিচিত।
রোগীর শিরা (Blood Vein) থেকে যখন রক্ত নেওয়া হয়, তখন এটাকে ভেনিপাংচার (Venipuncture) বলে।
ভেনিপাংচারের সময় ল্যাব টেকনিশিয়ান Hypodermic Needle দিয়ে রোগীর শিরা বা ধমনী থেকে রক্ত নিয়ে সিরিঞ্জে পুরে রাখেন। এরপর সেটাকে ল্যাবে পাঠানো হয়।
ল্যাবে যেসব টেকনিশিয়ান থাকেন, তারা ব্লাড সেম্পলটাকে বিভিন্ন মেশিনে প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষা করেন। কখনো কখনো ব্লাডের সঙ্গে অন্যান্য কেমিক্যাল মিশ্রণ করেন। এরপর, যখন উনি তার কাংখিত রেজাল্ট বের করে ফেলেন, তখন সেটাকে কম্পিউটারে লিপিবদ্ধ করেন এবং প্রিন্ট আউট নিয়ে সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
রক্তের বিভিন্ন উপাদানের স্বাভাবিক মাত্রা
আমাদের শরীরের রক্ত তরল (Liquid) এবং কঠিন (Solid) পদার্থ দিয়ে গঠিত।
রক্তের তরল অংশকে বলা হয় প্লাজমা (Plasma), আমাদের শরীরে বিদ্যমাণ রক্তের প্রায় অর্ধেকই হচ্ছে এই প্লাজমা। আর প্লাজমাতে যা যা থাকে তা হচ্ছে পানি, প্রোটিন ও লবণ।
আর কঠিন অংশে থাকে লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cells), সাদা রক্তকণিকা (White Blood Cells) এবং প্লেটলেট (Platelet)।
আসুন, জেনে নেই রক্তের বিভিন্ন উপকরণ বা উপাদানের স্বাভাবিক মাত্রা। নিচের চার্টের প্রতিটি উপাদানের লো থেকে হাই পর্যন্ত হচ্ছে নরমাল রেঞ্জ। লো থেকে কম কিংবা হাই থেকে বেশি হলে সেটা আর নরমাল থাকে না। তখন, ডাক্তার সেটা দেখে বুঝতে পারেন রক্তে কী ধরণের সমস্যা হয়েছে বা হতে যাচ্ছে।
টেস্টের নাম | Low Range | High Range |
Glucose (fasting) | 3.9 mmol/L | 5.8 mmol/L |
Urea | 2.5 mmol/L | 6.4 mmol/L |
Sodium (Na) | 134 mmol/L | 145 mmol/L |
Potassium (K) | 3.5 mmol/L | 5.0 mmol/L |
Creatinine (পূরুষ) | 62 mmol/L | 115 mmol/L |
Creatinine (মহিলা) | 53 mmol/L | 97 mmol/L |
Plasma | 0.3 mmol/L | 3 mg/L |
যেসব রোগ নির্ণয়ের জন্যে রক্ত পরীক্ষা করা হয়
বহু ধরণের রোগ আছে যেগুলো নির্ণয়, রোগের অবস্থান ও স্টেজ জানা, মনিটর করা এবং ভবিষ্যৎ রিস্ক ফ্যাক্টর ফাইন্ড আউট করার জন্যে রক্ত পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
নিচে আমরা নানা রকম রোগ থেকে সর্বাধিক পরিচিত কিছু রোগ সম্পর্কে আলোচনা করবো, যেগুলো রক্ত পরীক্ষা করে বের করা হয়ে থাকে।
হার্টের রোগ (Heart Diseases)
হার্টের মাংসপেশি যখন ড্যামেজ হয়ে যায়, হার্ট তখন রক্ত প্রবাহের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিন ও পদার্থ বের করে দেয়। Blood Test করে রক্তের সঙ্গে প্রবাহিত বা সার্কুলেট হওয়া এই প্রোটিনের মাত্রা নির্ণয় করা হয়। সেই সাথে, হার্টে কতটুকু ড্যামেজ হয়েছে সেটাও নির্ণয় করা হয়।
Cholesterol Test
হার্টের রোগ বা সমস্যা চিহ্নিত করার জন্যে সবচেয়ে কমোন যে রক্ত পরীক্ষাটি করা হয়, সেটি হচ্ছে কোলেস্টেরল টেস্ট। এটি দ্বারা রক্তের মধ্যে কি পরিমাণ ফ্যাট রয়েছে তা বোঝা যায় এবং হার্টে কি ধরণের রোগ বাসা বাঁধছে, সেটাও নির্ণয় করা যায়। এই টেস্টের মাধ্যমে রক্তে অতিরিক্ত ফ্যাট বা কোলেস্টেরল এর সমস্ত লক্ষণ ধরা পড়ে।
কোলেস্টেরল টেস্টের মধ্যে আবার বেশ কিছু ভাগ রয়েছে। যেমন-
- Total Cholesterol Test
- Low-density Lipoprotein (LDL) Cholesterol Test
- High-density Lipoprotein (HDL) Cholesterol
- Non-HDL Cholesterol
Triglyceride Test
রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড (Triglyceride) বা লিপিড (Lipid) জাতীয় ফ্যাটের মাত্রা বেড়ে গেলে হার্ট অ্যাটাকের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। তাই, রক্তে এই জাতীয় পদার্থের মাত্রা জানার জন্যেও রক্ত পরীক্ষা করা হয়।
রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের স্বাভাবিক বা নর্মাল মাত্রা হচ্ছে ১৫০ মিলিগ্রাম। এর বেশি হলে বোঝা যায় হার্টের সমস্যা হচ্ছে বা হতে যাচ্ছে।
Plasma Ceramides Test
রক্তের এই পরীক্ষা দ্বারা রক্তের ভেতর সিরামাইডের (Ceramide) মাত্রা পরিমাপ করা হয়। সব ধরণের সেল ধারাই Ceramide তৈরি হয় এবং এটি বিভিন্ন ধরণের মরা টিস্যু তৈরি, বাড়ানো, এবং কার্যকর করতে ভূমিকা রাখে যা হার্টের জন্যে হাই রিস্ক হিসেবে বিবেচিত হয়।
ডায়াবেটিস (Diabetes)
ডায়াবেটিস আছে কি নেই, কিংবা থাকলেও কোন টাইপটা আছে, তা জানার জন্যে রক্ত পরীক্ষাই প্রধান উপায়। ডায়াবেটিস সাধারণত ৪ ধরনের। যেমন-
- প্রারম্ভিক ডায়াবেটিস (Prediabetes)
- টাইপ ওয়ান (Type 1)
- টাইপ টু (Type 2)
- গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (Gestational Diabetes)
Prediabetes: Prediabetes হচ্ছে এমন একটি গুরুতর শারীরিক অবস্থা যেখানে রোগীর ব্লাড সুগার নরমাল রেঞ্জ থেকে বেশি, কিন্তু এত বেশি নয় যে তা টাইপ টু ডায়াবেটিসের আওতায় পড়ে।
Type 1 Diabetes: কারো অগ্নাশয় (Pancreas) যখন যথেষ্ট পরিমাণে ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না, বা খুবই কম তৈরি করে থাকে, তখন বোঝা যায় যে সে Type 1 Diabetes এ ভুগছে।
Type 2 Diabetes: এটা হচ্ছে অধিকাংশ ডায়াবেটিস রোগীর কমোন কন্ডিশন যেখানে তার শরীর প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি গ্লুকোজ (Level of Sugar) উৎপাদন করে থাকে। এ ডায়াবেটিস রোগীর অনেক তৃষ্ণা পায় এবং ঘন ঘন প্রস্রবের বেগ হয়ে থাকে।
Gestational Diabetes: যেসব মহিলার আগে কখনো ডায়াবেটিস ছিল না, কিন্তু গর্ভধারণের পর ডায়াবেটিস হয়েছে, এই ডায়াবেটিসকে বলে Gestational Diabetes।
উপরোক্ত বিভিন্ন ধরণের ডায়াবেটিস ডিটেক্ট করার জন্যে যেসব রক্ত পরীক্ষা করা হয়, সেগুলো হলো-
A1C Test
এই রক্তপরীক্ষাটি দ্বারা রক্তের গড় সুগারের মাত্রা (Average Blood Sugar Level) পরিমাপ করা হয়। এই মাত্রা যদি ৫.৭% এর নিচে থাকে, তবে ধরে নেয়া হয় ডায়াবেটিস নরমাল, কোনও সমস্যা নেই। যদি ৫.৭% থেকে ৬.৪% এর ভেতরে থাকে তবে বোঝা যায় Prediabetes, অর্থাৎ ডায়াবেটিস হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবণা। আর যদি ব্লাড সুগার ৬.৫% এর উপরে উঠে যায়, তবে নিশ্চিতরূপে বলা যায় ডায়াবেটিস বাসা বেঁধেছে।
Fasting Blood Sugar Test
সারারাত না খেয়ে থাকার পর সকাল বেলা খালি পেটে এই টেস্টটি করা হয়। এর মাত্রা ৯৯ মিলিগ্রাম কিংবা তার থেকে কম হলে নর্মাল ধরা হয়। ১০০ থেকে ১২৫ মিলিগ্রামের ভেতর থাকলে বুঝতে হয় যে ডায়াবেটিস হতে যাচ্ছে, অর্থাৎ Prediabetes স্টেজে আছে। আর ১২৬ থেকে উপরে উঠলে নিশ্চিত হওয়া যায় ডায়াবেটিস হয়ে গেছে।
Glucose Tolerance Test
ভরা পেট ও খালি পেট উভয় অবস্থাতেই এই টেস্টটি করা। পুরো রাত উপোষ করে শূন্য পেটে প্রথমবার টেস্ট করা হয় এবং এরপর লিকুইড জাতীয় কোনও খাবার (যাতে শর্করা বা সুগার মিশ্রণ থাকে) খাইয়ে আবার টেস্টটি করা হয়। এই টেস্টের নরমাল রেঞ্জ হচ্ছে ১৪০ মিলিগ্রাম। Prediabetes রেঞ্জ ১৪০ থেকে ১৯৯ মিলিগ্রাম আর ডায়াবেটিস লেবেল হচ্ছে ২০০ মিলিগ্রাম ও তার থেকে বেশি।
Glucose Screening Test
নাম থেকেই বুঝতে পারছেন, এই টেস্টটি দিয়ে ব্লাডের সুগার পরিমাপ করা হয়। ব্লাডের সুগারের পরিমাণ যদি ১৪০ মিলিগ্রাম বা তার চেয়ে কম হয়, তবে এটি স্বাভাবিক বা নর্মাল। আর যদি সুগারের লেভেল ১৪০ এর উপরে উঠে যায়, তখন সেটি ডায়াবেটিসের দিকে ইঙ্গিত দেয় এবং সেক্ষেত্রে গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট করতে হয়।
Glucose Tolerance Test
গ্লুকোজ মিশ্রিত তরল খাবার (Liquid Drink) গ্রহণের আগে এবং পরে এই টেস্টটি করা হয়। প্রতি ১ ঘন্টা, ২ ঘন্টা এবং ৩ ঘন্টা পরপর কয়েকবার এই টেস্টটি করার প্রয়োজন হয়। আর এই টেস্টের রেজাল্ট নির্ভর করে লিকুইড ড্রিংকের সঙ্গে কী পরিমাণ গ্লুকোজ খাওয়ানো হয়েছে এবং কত বার এবং কী পরিমাণ সময়ের ব্যবধানে টেস্ট করা হয়েছে তার উপর।
ক্যান্সার (Cancer)
ডাক্তার যদি সন্দেহ করেন যে আপনার ক্যান্সার হতে পারে, তবে তিনি যেসব টেস্ট করতে দিতে পারেন, তার মাঝে একটি হচ্ছে ব্লাড টেস্ট। ব্লাড ক্যান্সার ছাড়াও আর নানা ধরণের ক্যান্সার রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা সম্ভব। এ ধরণের রক্ত পরীক্ষা ক্যান্সারাস প্রোটিন, সেল বা কোষ এবং অন্যান্য পদার্থ (Substance) প্রকাশ করে থাকে।
ক্যান্সার নির্নয়ের জন্যে যে দুই ধরণের রক্ত পরীক্ষা করা হয়ে থাকে-
CBC – Complete Blood Count:
এই রক্ত পরীক্ষাটি রক্তের স্যাম্পল থেকে পরীক্ষা করে জানিয়ে দেয় যে রক্তে মোট কি পরিমাণ সেল রয়েছে। রক্তে যদি অনেক বেশি সেল থাকে কিংবা সেলের পরিমাণ যদি স্বাভাবিকের চেয়ে কম হয়, কিংবা যদি অ্যাবনর্মাল সেল পাওয়া যায়, তখন ডাক্তাররা ধরে নেন যে রোগীর ব্লাড ক্যান্সার আছে।
PT – Protein Testing:
যেসব প্রোটিন রোগ প্রতিরোধে কাজ করে (Abnormal Immune System Proteins) সেগুলোর মাঝে কোনও অস্বাভাবিক প্রোটিন আছে কিনা তা বের করা হয় রক্তের এই পরীক্ষাটির মাধ্যমে। একাধিক মায়লোমায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সাধারণত অ্যাবনর্মাল প্রোটিন জন্ম নেয় ও ডেভেলপ হয়, যা দ্বারা ক্যান্সার চিহ্নিত করা হয়।
হেপাটাইটিস (Hepatitis)
হেপাটাইটিস হচ্ছে লিভারের রোগ, যা আমাদের দেশে জন্ডিস নামে পরিচিত। লিভারে ক্ষত (Inflammation) তৈরি হলে হেপাটাইটিস হয়ে থাকে। হেপাটাইটিস ৩ প্রকার, যা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়।
Hepatitis A:
হেপাটাইটিস এ এমন একটি ভাইরাস যা লিভারে ইনফেকশন তৈরি করে থাকে। রক্ত পরীক্ষা দ্বারা রোগীর শরীরে এ ভাইরাসের উপস্থিতি আছে কিনা বা অতীতে ছিল কিনা তা যাছাই করা যায় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হয়ে যায়।
Hepatitis B:
এটিও ভাইরাসের দ্বারা সংঘঠিত হয়ে থাকে, আর রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাসটির অস্তিত্ব ও অবস্থান জানা যায়। তিন ধরণের হেপাটাইটিসের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। রক্ত পরীক্ষা না করলে জানা যায় না যে, এই ভাইরাসের সংক্রমণ কতটা তীব্র আর দীর্ঘস্থায়ী।
Hepatitis C:
হেপাটাইটিস সি হচ্ছে একটি ছোট ও পজিটিভ-সেন্স (Positive-sense) সমৃদ্ধ একটি ভাইরাস। এটি ফ্ল্যাভিভিরিডে (Flaviviridae) পরিবারের সদস্য। এই ভাইরাসের নাম RNA (Ribonucleic Acid) যা ডিএনএ’র বিপরীত। এই ভাইরাসটি শুধু লিভারে হেপাটাইটিস সৃষ্টি করার পাশাপাশি লিভার ক্যান্সারও সৃষ্টি করে থাকে। রক্ত পরীক্ষা করে এটি সম্পর্কে সম্যক অবস্থা জানা যায়।
এইচআইবি এবং এইডস্ (HIV and AIDs)
এইচআইবি (HIV) এর মূল ফর্ম হচ্ছে Human Immunodeficiency Virus। এটি এমন একটি ভাইরাস যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার (Immune System) উপর আক্রমণ করে এটিকে ধীরে ধীরে অকেজো করে দেয়। এই ভাইরাসটা আক্রমণ করলে যদি সঠিক চিকিৎসা করা না হয়, তবে এটি আক্রমণের শিকার ব্যক্তিকে এইডস্ এর মতো মরণব্যাধিতে ফেলে দেয়।
এইচআইবি ভাইরাস এইডস্ নির্ণয়ের জন্যে নিম্নোক্ত রক্ত পরীক্ষাগুলো করা হয়-
Antibody Screening Test:
এই রক্ত পরীক্ষাটির মাধ্যমে বিশেষ একটি প্রোটিনকে শনাক্ত করা হয়, যে প্রোটিনটি শরীর নিজ থেকেই উৎপাদন (Produce) শুরু করে এইচআইভি ইনফেকশনের ২ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে। রক্তের এই টেস্টটিকে বলা হয় ELISA টেস্ট। এইচআইভি ভাইরাস বা এইডস্ নির্ণয়ের জন্যে এই টেস্টটি অত্যন্ত নিখুঁত (Very Accurate) হতে হয়।
Antigen Combination Test:
এই রক্ত পরীক্ষাটি পূর্বের পরীক্ষা, অর্থাৎ Antibody Screening Test এর চেয়ে দ্রুত ভাইরাস শনাক্ত করতে পারে। এই পরীক্ষা দ্বারা মূলত p24 নামক এইচআইভি’র একটি অ্যান্টিজেন প্রোটিন (HIV Antigen Protein) শনাক্ত করা হয়, যা কিনা আক্রান্ত হওয়ার ২ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে শরীরে ডেভেলপ হয়ে থাকে।
Nucleic Acid Test:
রক্তের এই টেস্টকে আরএনএ (RNA) টেস্টও বলা হয়, এটিও এইচআইভি দেখার জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে, সেটি প্রকাশ পাওয়ার (Exposure) ১০ দিন পরে। কারো যদি ফ্লু-এর মতো উপসর্গ (Flu-like Symptoms) দেখা দেয়, কিংবা কোনও ব্যক্তির ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার হাই রিস্ক থাকে, তবে ডাক্তার Nucleic Acid Test এর পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
FBC – Full Blood Count
রক্তে কোনও ধরণের ইনফেকশন রয়েছে কিনা, কিংবা রক্তে আয়রণের অভাব এর লক্ষণ আছে কিনা, ইত্যাদি আরো কিছু বিষয় জানার জন্যে Full Blood Count বা FBC টেস্টটি করা হয়। এটি দিয়ে মূলত রক্তের বিভিন্ন ধরণের লেভেল মেজারমেন্ট করা হয় এবং ভিজিবলি উপস্থাপন করা হয়।
Thyroid Function Test
থাইরয়েড গ্রন্থি (thyroid gland) থাইরক্সিন (thyroxine) নামক একটি হরমোন উৎপাদন করে যা ব্যক্তিকে অসুস্থ্য করে তোলে। কারো যদি কম সক্রিয় (underactive) বা বেশি সক্রিয় (overactive) থাইরয়েড গ্রন্থি আছে বলে অনুমাণ করা হয় বা লক্ষণে বোঝা যায়, তবে এই Thyroid Function Test করে নিশ্চিত হয়।
বিভিন্ন কারণে আরো অনেক ধরণের রক্ত পরীক্ষা করা হয়ে থাকে এবং আরো অনেক ধরণের রোগ রয়েছে যেগুলো রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ফাউন্ড আউট করা হয়ে থাকে।
পুরনো গনোরিয়ার জন্য কি কি পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার হয়?
CBC (Complete Blood Count), ESR (Erythrocyte Sedimentation Rate), Nucleic Acid Amplification Tests এগুলোর যে কোনটি কিংবা দুইটি অথবা সবটিই।
রক্ত পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফলের উপর ভিত্তি করে সহজেই অনেক রোগের চিকিৎসা করা যায়। কিন্তু, অধিকাংশ মানুষই জানে না কোন রক্ত পরীক্ষাটা ঠিক কোন রোগের জন্যে করা হয়। তাই, হৈচৈ বাংলাকে ধন্যবাদ গুরুত্বপূর্ণ রক্ত পরীক্ষাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর জন্যে।
রক্ত পরীক্ষা রোগীর জন্যে একটি সাধারণ ব্যাপার, যা রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখিত ১০টি পরীক্ষা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে খুবই ভাল লাগলো।