ব্লগিং থেকে কি পরিমাণ আয় করা যায় তা অনেকেরই চিন্তার বাইরে। যারা ব্লগ থেকে কোটি কোটি টাকা আয় করছেন, তাদের দেখে অন্য অনেকেই বিপুল উৎসাহ নিয়ে ব্লগিং করতে আসেন। কিন্তু দ্যা বিজনেস ইনসাইডার ও পেওনিয়ারের এক যৌথ জরিপের ফলাফল হচ্ছে, যারা বিপুল উৎসাহ নিয়ে ব্লগিং করা শুরু করেন, তাদের ৯৫% ১ম ৬ মাসেই ব্লগিং থেকে ঝরে যায়। আর যারা টিকে থাকে, পরবর্তী ৬ মাসেই তাদেরও ৯৫% ঝরে যায় বা ব্লগিং করা ছেড়ে দেয়।
কিন্তু কেন এত উৎসাহ উদ্দীপণা নিয়ে শুরু করেও টিকে থাকতে পারে না ব্লগিং শুরু করা অধিকাংশ মানুষই? বিভিন্ন অনলাইনে প্রকাশিত জরিপের ফলাফল থেকে জানা কারণগুলো থেকে সবচেয়ে বেশি আলোচিত কারণ আর তার সহ কারণগুলো নিয়েই আজকের পোস্ট।
ওয়েবসাইট সেট-আপে সমস্যা
মূল কারণ এটি, অর্থাৎ ওয়েবসাইট সঠিকভাবে সেট-আপ না করা, কোথাও না কোথাও না কোথাও কোন না কোন সমস্যা থাকা। ওয়েবসাইট সেট-আপে নতুন ব্লগাররা যে-ভুলগুলো করেন আর যেগুলোর কারণে এক সময় ব্লগিং ছেড়ে দেন, নিচে সেগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হল-
একই ওয়েবসাইটের ২টি কিংবা ৩টি ভার্সণ
যেমন-
- http://hoicoibangla.com
- http://www.hoicoibangla.com
- https:// hoicoibangla.com
যদি এই ভার্সণ সেট-আপ সঠিক না হয়, তবে একই সময়ে একই সঙ্গে ২টি কিংবা ৩টি ওয়েবসাইট লাইভ থাকে। তার মানে হচ্ছে, প্রতিটি ভার্সণই অন্য ভার্সণের ডুপ্লিকেট। সুতরাং, আপনাদের নিশ্চয়ই আর বুঝতে বাকী নেই যে, এই ওয়েবসাইটে যত পোস্ট থাকবে, সব পোস্ট ডুপ্লিকেট। কাজেই, যতই ইউনিক কন্টেন্ট দেয়া হোক আর যতই এসইও করা হোক, এই ব্লগ বা ওয়েবসাইট কখনোই র্যাংক পায় না। আর ব্লগের মালিক এই প্রক্রিয়াটি জানে না বলে বুঝতেই পারে না যে, তার ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে ডুপ্লিকেট হয়ে বসে আছে। এদিকে, র্যাংক না পেয়ে, ইনকাম করতে না পেরে ব্লগিংই ছেড়ে দেয়।
বিষয়টি আরো ক্লিয়ার হওয়ার জন্যে উপরে দেয়া আমাদের ওয়েবসাইটের ১ম ও ২য় লিংক ব্রাউজারে প্রবেশ করিয়ে দেখুন। আপনি উপরের যে দু’টি ইউআরএলই ভিজিট করবেন, আপনাকে নিয়ে যাবে ৩য় লিংক বা ইউআরএল-এ। তার মানে আমাদের ওয়েবসাইটের ৩টি ভার্সণ থাকলেও, আপনি যেটিই ভিজিট করবেন, ঘুরে-ফিরে আপনাকে একটিতেই অর্থাৎ তৃতীয়টিতে নিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, সিকিউরড্ সার্ভার ব্যবহার না করলে অর্থাৎ https না হলে সব ওয়েবসাইটেরই উপরের ২টি ভার্সণ থাকে। সিকিউরড্ সার্ভার এমন একটি সার্ভার যা একটি ওয়েবসাইটে কোন ভাইরাস, ম্যালওয়্যার বা হ্যাকিং জাতীয় কোন কিছু নেই বলে ভিজিটরকে নিশ্চিত করে। অর্থাৎ একজন ভিজিটরের সামনে ওয়েবসাইটের যে পেইজিটই আসে, সেটি একটি সার্ভার দ্বারা টেস্ট হয়ে আসে যা ভিজিটর বুঝতেও পারে না। ওয়েবসাইট সিকিউরড্ হওয়া গুগলের একটি র্যাংকিং ফ্যাক্টর। আর এটি (htps) মাসিক পেমেন্ট দিয়ে ব্যবহার করতে হয়। প্রতি মাসে ১০ থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত খরচ হয়।
স্প্যাম কমেন্ট
ব্লগ বা ওয়েবসাইটে কমেন্ট ফর্ম থাকতেই হবে। এটা ব্লগে ভিজিটরদের অ্যাক্টিভিটির জন্যে অপরিহার্য্য। আপনার একটি লেখা পড়ে আরেকজনের কেমন লাগলো, কতটা কাজে আসলো তা জানাতে একজন ইউজার কমেন্ট ফর্ম ইউজ করে। একটা ওয়েবসাইটে যত বেশি কমেন্ট পড়বে, ওয়েবসাইটের জন্যে সেটি ততই ভাল। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, একটা ওয়েবসাইটে মানুষ যত কমেন্ট করে তার থেকে বেশি কমেন্ট করে বট বা রোবট।
এই বট বা রোবট মূলত একটা ছোট্ট অ্যাপ্লিকেশন যা অনেক অসৎ লোক তৈরি করে অনলাইনে ছেড়ে রেখেছে। বিভিন্ন অসৎ ব্যক্তি বা কোম্পানীর তৈরি করা এই রোবটগুলো ঘুরে ঘুরে সব ওয়েবসাইটে অটো কমেন্ট দিয়ে আসে। এখন একজন ব্লগ বা ওয়েবসাইটের মালিক যদি স্প্যাম কমেন্ট বন্ধ করার প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে না করেই ব্লগিং করতে থাকেন, তাহলে তো তার ব্লগ ডুববেই আর ব্লগিং ছেড়ে না দিয়ে কোন উপায়ই থাকবে না।
ওয়েবসাইট ব্যাকআপ
সিএমএস, থিম বা প্লাগিনের প্রতিনিয়ত আফডেটের কারণে যে কোন সময় ওয়েবসাইটে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। কিংবা কোন অনিচ্ছাকৃত ভুলে ওয়েবসাইটের ডাটা, কন্টেন্ট কিংবা পুরো ওয়েবসাইটটিই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন প্রতিদিন কিংবা কমপক্ষে প্রতি সপ্তায় একবার ওয়েবসাইটের ব্যাক-আপ নিয়ে রাখা যাতে সাইটে কোন সমস্যা হলেই ব্যাক-আপ ফাইলগুলো আফলোড করে ওয়েবসাইটকে আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়।
এখন, বিষয়টি না জানার কারণে হোক আর টেকনিক্যাল নলেজের অভাবে হোক, যে-সব ব্লগার ওয়েবসাইটের ব্যাক-আপ রাখেন না, তাদের ওয়েবসাইটে কোন সমস্যা হলে তো ব্লগিং ছেড়ে দেয়া ছাড়া আর কোন গতি নেই।
কেন হতাশ হয়ে মানুষ এক সময় ব্লগিং ছেড়ে দেন, তার আরো কিছু কারণ রয়েছে। সেগুলো আর এই পোস্টে আলোচনা করলাম না, অন্য কোন পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করার ইচ্ছে আছে, সময় সুযোগ বুঝে আলোচনা করবো, ইনশাল্লাহ্।
অনেক দিন পর নতুন কিছু শিখতে পারলাম। ব্লগিং করবো ভাবছিলাম কিন্তু এখন দেখি অনেক শেখার বাকি আছে। অনুরোধ থাকলো ব্লগিং নিয়ে নতুন একটা বিভাগ খুলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্টেপ বাই স্টেপ টিউটোরিয়াল প্রকাশ করার জন্য। পাশাপাশি ডোমেইন, হোস্টিং, থিম কেনা থেকে শুরু করে ওয়েবসাইট সেট আপ এবং এসিও এর বেপারে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য।
তাই বলে ব্লগিং করার ভাবনা ত্যাগ করার তো প্রয়োজন নেই। যেটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে সঠিক গাইডলাইন। ব্লগিং, ডোমেইন-হোস্টিংসহ সব বিষয়েই লেখা থাকবে, ইনশাল্লাহ্। ব্লগিং, এসইও এবং অন্যান্য ব্যাপারে আপনার নিজের নলেজও শেয়ার করতে পারেন।
ভাইয়া, আমি আপনার সাইটে আর্টিকেল লিখতে চাই।
আমাদের সাইটে আর্টিকেল লেখার আগ্রহ প্রকাশের জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ শামিম মাহমুদ। আপাতত: আমাদের সাইটে নতুনদের জন্যে আর্টিকেল লেখা বন্ধ রয়েছে। আপনি দয়া করে আমাদের সাইটের প্রাইমারি মেন্যুতে দেয়া নোটিশ বোর্ডটি পড়ে দেখুন।