৫০০০ টাকার বেশি অর্ডার করলেই ফ্রি ডেলিভারি।
English
You can use WPML or Polylang and their language switchers in this area.
0 $0.00

Cart

No products in the cart.

ফেসবুকে ওয়েবসাইটের ইউআরএল ব্লক খাওয়ার কারণ ও প্রতিকার

ফেসবুকে ওয়েবসাইটের ইউআরএল ব্লক

বিভিন্ন কারণে আমরা ফেসবুকে লিংক শেয়ার করে থাকি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের প্রমোশনের জন্যেই লিংক বা ইউআরএল শেয়ার করা হয়ে থাকে। কিন্তু মাঝে মধ্যেই দেখা যায় যে ফেসবুকে ওয়েবসাইটের ইউআরএল ব্লক খেয়ে যায়। অর্থাৎ, ফেসবুকের সিকিউরিটি সিস্টেম বিশেষ কিছু ইউআরএল আঁটকে দেয়।

আপনি কি জানেন কেন আঁটকে দেয়? কেন ফেসবুকের নিউজফিডে কিংবা বিজনেস পেজে কিংবা মেসেঞ্জারে শেয়ার করা লিংক ব্লক খায়?

আপনি যদি কোনও ব্লগ বা বিজনেস ওয়েবসাইট পরিচালনা করে থাকেন, তবে নিশ্চয়ই জানেন ফেসবুক মার্কেটিং কি ও কতটা প্রয়োজনীয়। কিন্তু সেই সাথে আপনার অবশ্যই জানা দরকার কেন ফেসবুক লিংক বা ইউআরএল ব্লক করে দেয় আর তার প্রতিকার কি। আসুন, প্রথমে জানা যাক আপনার ওয়েবসাইট ব্লক খেয়েছে কিনা তা কিভাবে যাছাই করবেন।

কিভাবে বুঝবেন ফেসবুক আপনার ওয়েবসাইট ব্লক করে দিয়েছে?

আপনার ওয়েবসাইট ফেসবুকে ব্লক খেয়েছে কিনা তা বোঝার জন্যে আপনি ফেসবুক শেয়ারিং ডিবাগার টুল ব্যবহার করতে পারেন। নিচের বাটনে ক্লিক করে টুলটিতে প্রবেশ করুন।

ফেসবুকে ওয়েবসাইটের ইউআরএল ব্লক

উপরের লিংকে যাওয়ার পর আপনার কাজ হচ্ছে ওয়েবসাইটের লিংক পেস্ট করে জাস্ট Debug বাটনে ক্লিক করা। যদি আপনার ওয়েবসাইট ব্লক করা হয়ে থাকে, তবে নিচের মেসেজটি দেখতে পাবেন।

We can’t review this website because the content doesn’t meet our Community Standards.

ফেসবুকে আমাদের ওয়েবসাইট ব্লক কিনা তা আমরা যাছাই করা শিখলাম। এবার আসুন, জানা যাক ইউআরএল ব্লক খাওয়ার কমোন কারণগুলো। এরপর জানবো প্রতিকারের উপায়।

ফেসবুকে ওয়েবসাইটের ইউআরএল ব্লক হওয়ার কারণ

আমরা সাধারণত ফেসবুকে মার্কেটিং করার জন্যে আমাদের ওয়েবসাইটের লিংক শেয়ার করি। কিন্তু ফেসবুক মার্কেটিং এর কিছু মারাত্মক ভুল রয়েছে যেগুলো আমরা অনেকেই জানি না। অনেক কারণেই ফেসবুক কতৃপক্ষ ওয়েবসাইটের লিংক ব্লক করে থাকে। এর মাঝে সবচেয়ে বেশি ঘটে যাওয়া এবং কমোন কারণগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো।

১. কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ভায়োলেশন

আপনি যদি ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ভঙ্গ করেন, তবে ফেসবুক আপনার শেয়ার করা ইউআরএল ব্লক করে দেবে। উদাহরণ স্বরূপ, আপনার ইউআরএল ব্লক করা হবে যদি, তাতে কেনা-বেচা বিষয়ক নিচের বিষয়গুলো থাকে-

  • গাঁজা
  • আগ্নেয়াস্ত্র
  • মদ ও তামাক
  • মানুষের রক্ত
  • নন-মেডিকেল ড্রাগস্ বা ঔষধ
  • ডায়েট প্রোডক্ট
  • জীবিত প্রাণী
  • বিপন্ন প্রাণী বা প্রজাতি

তবে, যদি উপরোক্ত কোন বিষয়ের সরকারি লাইসেন্স থাকে এবং ব্লক করার পর আপনি সেট শো করতে পারেন, তবে ২১ বছরের উর্দ্ধে ব্যবহারকারীগণের জন্যে ফেসবুক তাদের রেস্ট্রিকশন তুলে নেয়।

ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড আরো কিছু বিষয় কাভার করে, যেগুলো থাকলে ইউআরএল ব্লক খাবে; এগুলো হচ্ছে-

  • মিথ্যা বা ভুয়া সংবাদ
  • হেইট স্পিচ
  • নগ্নতা বা অশালীন ছবি বা ভিডিও
  • স্প্যাম বা হ্যাকিং টাইপ কোন কন্টেন্ট
  • জালিয়াতি বা প্রতারণা

২. ফেসবুক অ্যালগোরিদমে ধরা পড়লে

ফেসবুকের পক্ষে আমাদের শেয়ার করা প্রতিটি ইউআরএল ম্যানুয়াল্লি চেক করা সম্ভব নয়। যারফলে, ইউআরএল চেক ও ব্লক করার জন্যে ফেসবুক কিছু অ্যালগোরিদম সেট করে দিয়েছে।

উদাহরণ স্বরূপ, ওয়েবসাইট স্প্যামিং করা থেকে মানুষকে বিরত রাখার জন্যে ফেসবুকের অ্যান্টি-স্প্যাম অ্যালগোরিদম রয়েছে। আপনি যদি অল্প সময়ের মধ্যে অনেকগুলো ইউআরএল পোস্ট করেন, তবে সেগুলো অ্যান্টি-স্প্যামের আওতায় পড়ে যাবে এবং অ্যালগোরিদমের কারণে অটোমেটিক ব্লক হয়ে যাবে।

আবার আপনি যদি একই পোস্ট বারবার শেয়ার করেন, বিভিন্ন পেজে শেয়ার করেন কিংবা বিভিন্ন গ্রুপে শেয়ার করেন, তাতেও সেটি ব্লক খাবে। কারণ, ফেসবুকের অ্যালগোরিদম এভাবেই ডেভেলপ করা হয়েছে।

৩. ম্যালিসিয়াস রিপোটিং হলে

ফেসবুক এমন একটি যুদ্ধক্ষেত্র যেখানে প্রতি মূহুর্তে ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রতিযোগীতা চলে। সেই সাথে হিংসা আর অন্যকে দমানোর নোংরা মানসিকতা তো রয়েছেই। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে আপনার প্রতিযোগীরা আপনার পেজটিকে ম্যালিসিয়াস রিপোর্ট দিতে পারে।

আর অন্যান্য ক্ষেত্রে কেউ কেউ হিংসা বশবর্তী হয়ে অহেতুক রিপোর্ট মারতে পারে। যদি অসংখ্য ফেসবুক ইউজার আপনার বিরুদ্ধে ফেসবুক রিপোর্টিং সিস্টেম ব্যবহার করে আপনার সাইটটির ব্যাপারে রিপোর্ট করে, তবে আপনার সাইটের ইউআরএল ব্লক খেতে পারে।

ইউআরএল ব্লক কিন্তু উপকারের জন্যেই

ফেসবুকে মানুষ অসংখ্য জিনিস শেয়ার করে থাকে যার মাঝে ইউআরএলও আছে। অধিকাংশ ইউআরএলে ভাল কন্টেন্ট থাকলেও এমন অনেক ইউআরএল শেয়ার হয় যেগুলোতে ম্যালিসিয়াস ফাইল থাকে যা কম্পিউটার কিংবা স্মার্টফোন হ্যাক করতে পারে।

আপনাকে, আমাকে এবং সকল ইউজারকে নিরাপদ রাখতেই ফেসবুক এই ইউআরএল ব্লকিং সিস্টেম ডেভেলপ করেছে। আর এই সিস্টেমটিই সন্দেহজনক ইউআরএলগুলো ব্লক করে দিচ্ছে। তাহলে, বিষয়টি দাঁড়ালো যে এটা আমাদের জন্যে উপকারি।

তবে, অনেক সময় এমন হয় যে বিনা দোষে মানুষ দোষী সাব্যস্ত হওয়ার মতো ফেসবুকে ব্লক খেয়ে যায়। অর্থাৎ, এমন হতে পারে যে আপনার ওয়েবসাইটে এমন কিছু নাই যার জন্যে ফেসবুক আপনার ইউআরএল ব্লক করতে পারে। কিন্তু ওদের ডেভেলপ করা সিস্টেমের কারণে আপনি ধরা খেলেন। এমতাবস্থায় কি করবেন জেনে নিন।

ফেসবুকে লিংক বা ইউআরএল ব্লক খেলে কি করবেন?

যদি অপ্রত্যাশিতভাবে আপনার ওয়েবসাইট ফেসবুকে ব্লক খেয়ে থাকে, তবে আপনি কিছু কাজ করতে পারেন যা নিম্নে দেয়া হলো।

১. নিশ্চিত হয়ে নিন আপনি কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ভঙ্গ করেননি

কোন কিছু করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার ওয়েবসাইট ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ভঙ্গ করেনি। এর জন্যে প্রথমেই Facebook Community Standards এ দেয়া সবগুলো নিয়ম-কানুন পড়ে নিন। এখানে আপনার করণীয় এবং বর্জণীয় সকল বিষয়ই আলোচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোন কোন ক্ষেত্রে ইউআরএল ব্লক করা হয়, সেগুলো দেয়া আছে। এগুলো পড়ুন এবং মেনে চলুন।

২. পূন:বিবেচনার জন্যে ফেসবুকে আপনার ওয়েবসাইট সাবমিট করুন

আপনি যদি নিশ্চিত হয়ে থাকেন যে, আপনার ওয়েবসাইট ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ভঙ্গ করেনি, তবে আপনি পূন:বিবেচনার জন্যে ফেসবুক কতৃপক্ষের কাছে আপনার ওয়েবসাইট সাবমিট করতে পারেন।

এটা করার জন্যে, আবার আপনি ফেসবুক ডিবাগিং টুলে প্রবেশ করুন যা উপরে দেয়া হয়েছে। এরপর আপনার ওয়েবসাইটের ইউআরএল প্রবেশ করান এবং ডিবাগ বাটনে ক্লিক করুন। আপনি নিশ্চয়ই একই মেসেজ দেখতে পাবেন যেখানে লেখা থাকবে – কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেন না করার কারণে আমরা আপনার ওয়েবসাইটটি রিভিউ করতে পারছি না।

এরপরের লাইনটি থাকবে এ-রকম-

If you think this is a mistake, please let us know.

খেয়াল করে দেখুন Let us know কথাটি লিংক করা রয়েছে। লেখাটার উপর ক্লিক করুন। এটা আপনাকে একটি ফর্মের পেজে নিয়ে যাবে যেখানে আপনি একটি ছোট্ট মেসেজ দিয়ে ব্যাখা করতে পারবেন, কেন আপনার ওয়েবসাইটটি আনব্লক হওয়া উচিৎ।

  • আপনার সাইট যদি কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ভঙ্গ না করে, তবে আপনি সেটা এখানে লিখে দিতে পারেন।
  • যদি ভঙ্গ করে থাকে, তবে যে ইউআরএল দ্বারা ভঙ্গ করা হয়েছে, সেটি রিমুভ করে ফেসবুককে জানাতে পারেন।

ফেসবুক কত দিনের মধ্যে আপনাকে জবাব দেবে এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোন সময় উল্লেখ করা নেই। তথাপি, আপনি ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে রেসপন্স পাওয়ার আশা রাখতে পারেন। আর যদি একেবারেই রেসপন্স না পান, তবে আবার সাবমিট করতে পারেন।

পরিশেষ

আশা করি, ফেসবুকে ইউআরএল ব্লকের কারণ ও প্রতিকারের উপায়গুলো আপনাদের ভাল লেগেছে। তবে, আমি মনে করি এক্সপার্টদের দেয়া কিছু ফেসবুক মার্কেটিং টিপস্ ফলো করলে আপনার ওয়েবসাইট কখনো ব্লক খাবে না। ফলে, আপনি নিশ্চিন্তে আপনার ব্লগ কিংবা বিজনেসের প্রমোশন করে যেতে পারবেন।

You might be interested in …

1 Comment

  1. ইউআরএল ব্লক খাওয়া নিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। চিটাগাং আপনাদের অফিস কোথায় জানাবেন প্লিজ!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Our Newsletter

Receive a 30% discount on your first order