বুকে ব্যাথার কারণ ২০টি – আপনার মধ্যে কোনটি?
আমাদের সবারই কম বেশি বুকে ব্যাথা হয়। তবে, বুকে ব্যাথার কারণ কি সেটা আমরা অনেকেই জানি না। বুকে ব্যাথা হলেই আমরা হতাশ হয়ে যাই। যে-কোনো ব্যাথাকেই আমরা হার্ট অ্যাটাকের সাথে গুলিয়ে ফেলি। এই বুঝি মরে যাব, এমন মনে হয়। যদিও হার্টের সমস্যার কারণে বুকে ব্যাথা হতে পারে, কিন্তু হার্ট অ্যাটাক ছাড়াও অনেক কারনে বুকে ব্যাথা হয়ে থাকে।
একটা কথা মনে রাখতে হবে, কোনো ব্যথাই কিন্তু ভাল কিছু নির্দেশ করে না। ব্যাথা হলে, বিশেষ করে বুকে ব্যাথা হলে অবশ্যই আমাদের ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। আর ঔষধ খাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন থাকতে হবে, ডাক্তারের ব্যাবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ঔষধই সেবন করা যাবে না। না জেনে ঔষধ সেবন করার কারণে সৃষ্ট সামান্য ভূলও আমাদের জীবনে খারাপ কিছু বয়ে আনতে পারে।
যে-সব কারনে আমাদের বুকে ব্যাথার সূচনা হয়, তার অন্যতম হল হার্টে সমস্যা। তাছাড়া ফুসফুসের সমস্যা বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বা আরো অন্য সমস্যার কারনেও ব্যথা হতে পারে। তো, চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ২০টি কারণ যেগুলোর জন্যে বুকে ব্যাথা ব্যাথা হয়। তার আগে বুক ব্যাথা কি, সেটা জেনে রাখলে মন্দ হয় না।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
বুকে ব্যাথা কি?
কোনো কারনে যখন আমরা বুকে অস্বস্তি বা খারাপ লাগা অনুভব করি, তখন তাকে বুকে ব্যাথা বলে। এ অবস্থায় বুকে একটা চাপ অনুভব হয়, সেই সাথে নিশ্বাস নিতে যথেষ্ট কষ্ট হয়। অনেকের ক্ষেত্রেই এমন মনে হয় যে, বুকের উপর কেউ একটা পাথর বসিয়ে রেখেছে যা সরানো সম্ভব হচ্ছে না। কারো কারো ক্ষেত্রে বুকে সারাক্ষণ চিনচিন করতে থাকে। কারো কারো আবার বুক জ্বালা-পোড়া অনুভূত হয়।
বুক ব্যাথা অনেক সময় কাঁধ, বাহু, গলা, চোয়াল কিংবা পিঠে ছড়িয়ে পড়ে। কোনো কোনো বুকের ব্যাথা মৃত্যুর কারন হতে পারে। তবে, হঠাৎ ব্যাথা হলে ভয়ের কিছু নেই। কারণ, বুকে ব্যাথার সহজ টেস্ট ও ভাল ট্রিটমেন্ট রয়েছে। আগে জেনে নিন কি কি কারণে বুক ব্যাথা হয়।
বুকে ব্যাথার কারণ

আমাদের বুকের যে কোনো পাশে ব্যাথা শুরু হতে পারে। হতে পারে সেটা বুকের বাম পাশে বা ডান পাশে। এখানে রয়েছে বুকে ব্যাথার ২০টি কারণ। কারণগুলো ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হলো-
উদ্বেগ, ধকল বা হতাশা (Anxiety or stress or depression)
সময়ে সময়ে উদ্বেগ বা উৎকন্ঠা অনুভব করা, চিন্তিত হওয়া বা ভয় পাওয়া আমাদের সাধারণ এবং স্বাভাবিক জীবন-যাপনেরই একটা অংশ। আমরা প্রতিদিন যে-সব মন্দ পরিস্থিতির মুখোমুখি হই, উদ্বেগ বা ভয়-ভীতি সেগুলোর একটা সাধারণ প্রতিক্রিয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।
তবে, কিছু মানুষ প্রতিনিয়তই উৎকন্ঠায় ভুগে থাকেন। তাদের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো অনুভূতির বাইরে চলে যায় এবং মানসিক থেকে শারীরিক প্রতিক্রিয়ায় রূপ নেয়। আর উদ্বেগের শারীরিক প্রতিক্রিয়ারই একটা বড় অংশ হচ্ছে বুক ব্যাথা।
আমরা যখন অতিরিক্ত পরিশ্রম করি বা কোনো বিষয়ে উদ্বিগ্ন থাকি, হতাশায় পড়ি, তখন বুকের ডান দিকে ব্যাথা হতে পারে। উদ্বেগ বা ধকলের ফলে বুকে হঠাৎ ব্যাথা হয়, মাথা ঘোরে, নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
যদিও উদ্বেগ বা হতাশা দূর করার উপায় আছে, তবুও আপনি যদি ঘন ঘন উদ্বেগে ভোগেন, তবে খেয়াল রাখুন আপনার বুকে ব্যাথা হয় কিনা। যদি উদ্বেগের সঙ্গে বুকে ব্যাথা অনুভব করেন, তবে সেটা অবশ্যই ডাক্তারকে বলুন, তাহলেই ডাক্তারের ক্ষেত্রে আপনার বুক ব্যাথার চিকিৎসা করা সহজ হবে।
পাঁজরের হাড়ে ফাটল (Rib fracture)
আমাদের প্রত্যেকেরই একটি বুকের খাঁচা বা rib রয়েছে। আর এই খাঁচাতে মোট ১২ জোড়া বা ২৪টি হাড় আছে। পাঁজরের এই হাড়গুলো আমাদের যকৃত, ফুসফুস এবং হার্টসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অঙ্গকে বাহিরের আঘাত থেকে রক্ষা করে থাকে। কোনো কারনে যদি আমাদের পাঁজরের হাড়ে ফাটল দেখা দেয়, তাহলে বুকে প্রচুর পরিমাণে ব্যাথা হতে পারে।
হাত বা পায়ের হাড় ভাঙ্গা যেমন সহজে বোঝা যায়, পাঁজরের হাড় ভাঙ্গাটা কিন্তু অতো সহজে বোঝা যায় না। আপনার যদি অনুভব হয় যে আপনার পাঁজরের হাড়ে চোট লেগেছে বা ভেঙ্গে গিয়েছে, তবে আপনার অবশ্যই উচিৎ একজন ডাক্তার দেখানো। ডাক্তারের কাছে গেলে হাড়ে কোন সমস্যা হয়েছে কিনা তা জানতে তিনি কিছু ইমেজিং টেস্ট করাতে পারেন। যেমন, এক্স-রে, চেস্ট সিটি স্ক্যান কিংবা বোন স্ক্যান।
অ্যানজাইনা (Angina)
আমাদের হার্টে যখন কোনো কারনে রক্ত সরবরাহ কমে যায়, তখন বুকে তীব্র ব্যাথা হয়। এ ধরনের ব্যাথাকে সাধারনত angina বা অ্য্যানজাইনা বলে। অ্যানজিনার ফলে বুকে ব্যাথার পাশাপাশি ঘাড়, কাঁধ, পিঠ বা চোয়ালেও ব্যাথা হতে পারে।
বুকে ব্যাথা হলে ডাক্তাররা অন্যান্য পরীক্ষার পাশাপাশি এটাও পরীক্ষা করে দেখেন যে এটা অ্যানজাইনা থেকে হয়েছে কিনা। এক্ষেত্রে ডাক্তাররা আপনার স্ট্রেস টেস্টিং, ব্লাড টেস্ট, ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম, চেস্ট এক্স-রে, কম্পিউটেড এনজিওগ্রাফি, করোনারি এনজিওগ্রাফি কিংবা কার্ডিয়াক ক্যাথেরাইজেশনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করে থাকেন। অর্থাৎ, বুকে ব্যাথার কারণ অ্যানজাইনা কিনা তা দেখার জন্যে উপরোক্ত পরীক্ষাগুলো করানোর প্রয়োজন হয়।
টেস্ট করে যদি অ্যানজাইনার অবস্থা জানা যায়, তবে ডাক্তাররা দেখেন সেটা স্টেবল নাকি আন-স্টেবল অবস্থায় আছে। যদি আন-স্টেবল হয়, তবে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি এড়াতে ডাক্তাররা দ্রুত হার্টের চিকিৎসা শুরু করে থাকেন। আর হার্টের চিকিৎসা যে এখন প্রায় সব হাসপাতালে সহজলভ্য তা আমরা অনেকেই জানি, কাজেই বুক ব্যাথায় ভয় পাবেন না।
মানসিক আঘাত (Trauma)
বিভিন্ন কারনে মানুষ মানসিক আঘাত পেতে পারে। হতে পারে সেটা কোনো প্রিয়জনের মৃত্যুর কারণে কিংবা কোনো দূর্ঘটনায় পতিত হওয়ার ফলে। তবে, মানসিক আঘাতের কারণে আমাদের হৃৎপিন্ড, ফুসফুস অথবা অন্য কোনো অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। Trauma এর ফলে বুকে প্রচুর পরিমানে ব্যাথা অনুভূত হয়।
হার্ট অ্যাটাক (Heart attack)
এটাকেই অধিকাংশ সময় বুকে ব্যাথার কারণ বলে মনে করে থাকেন অনেকে। যখন অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহ ক্রমেই কমতে থাকে, তখন হার্টের পেশিগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এ অবস্থায় বুকের বাম পাশে তীব্র ব্যাথা হয়। হার্ট অ্য্যাটাকের ফলে বুকে ব্যাথার পাশাপাশি বাহু, ঘাড়, চোয়াল ও পিঠে ব্যাথা হতে পারে।
হার্ট অ্যাটাক হলে বুক ব্যাথার পাশাপাশি সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় শ্বাস-প্রশ্বাসে। কাজেই, আপনার যদি বুক ব্যাথার সাথে নি:শ্বাসের সমস্যা দেখা দেয়, মনে হয় ঠিক মতো বাতাস পাচ্ছেন না, তবে ভেবে নিতে পারেন হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। এক্ষেত্রে, যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে চলে যান।
মায়োকার্ডাইটিস (Myocarditis)
Myocarditis এর আরেক নাম ইনফ্লেম্যাটোরি কার্ডিওমাইপ্যাথি যা মূলত হার্টের পেশিতে প্রদাহ। হার্টের ভিতরের পেশিতে প্রদাহ দেখা দিলে কিংবা অন্য কোন সমস্যা হলেও বুকে ব্যাথা হতে পারে। মায়োকার্ডিটিস এর ফলে বুকে ব্যাথা ছাড়াও জ্বর, ক্লান্তি ও নিঃশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়।
মায়োকার্ডাইটিস হলেও বুক ব্যাথার সঙ্গে সঙ্গে নি:শ্বাসের সমস্যা বা অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দেয়। সেই সাথে, হার্ট বিট অত্যাধিক কমে যাওয়া কিংবা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবণাও থাকে। বুকে ব্যাথার কারণ মায়োকার্ডাইটিস কিনা তা পরীক্ষা করার জন্যে হার্টের আলট্রাসাউন্ড করতে হয়।
গ্যাসট্রিকের সমস্যা (Heartburn or acid reflux)
অনেক বিষেজ্ঞ চিকিৎসকই মনে করেন, অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রেই বুক ব্যাথার অন্যতম প্রধান কারণ গ্যাস্ট্রোসোফিজিয়াল রিফ্লাক্স। এটাই নন-কার্ডিয়াক বা হার্টের সমস্যার বাইরে বুক ব্যাথার সবচেয়ে কমন কারণ হিসেবে চিহ্নিত। কারণ, গবেষণায় দেখা গিয়েছে ২২ থেকে ৬৬ ভাগ বুক ব্যাথার কারণই হল গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা। আর এটাকে মেডিকেলের ভাষায় acid reflux বলা হয়ে থাকে।
কখনো আমাদের পাকস্থলির এসিড যখন খাদ্যনালী বেয়ে উপরে চলে আসে, তখন বুকে ব্যাথা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় বুকে খিল ধরে, জিহবার শেষ দিকে টক স্বাদ লাগে, বমি বমি ভাব হয়, খেতে সমস্যা হয় এবং অরুচি দেখা দেয়।
পেরিকার্ডিটিস (Pericarditis)
হার্টের বাইরে পেরিকার্ডিয়াম নামে একটা আবরণ থাকে। এটা কোনো কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হলে বুকের বামপাশে ব্যাথা হয়। তাছাড়াও ঘাড়ে ও পিঠে ব্যাথা হতে পারে পেরিকার্ডিটিস এর কারনে।
সাধারণত পেরিকার্ডিটিসের কারণে সৃষ্ট বুক ব্যাথা দ্রুত আসে এবং দ্রুত চলে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই Pericarditis এর কারণে সৃষ্ট ব্যাথা বুকের বাম পাশে দেখা দিয়ে থাকে। কয়েকবার উঠ-বস করলে এ ধরণের ব্যাথা কিছুটা নিরাময় পাওয়া যায়, আরামবোধ হয়।
প্যানিক অ্যাটাক (Panic attack)
যখন আমরা কোনো কারনে ভয় পেয়ে থাকি, তখন প্যানিক অ্যাটাক হতে পারে। আর এ ধরণের অ্যাটাকের কারণেও বুক ব্যথা হয়। ব্যাথা শুরু হওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এ অবস্থায় বুকে অস্বাভাবিক ব্যাথা হয়, শরীর ঘেমে যায়, হার্টবিট অনেক বেড়ে যায়।
হার্নিয়া (Hiatal hernia)
কোনো কারনে আমাদের পাকস্থলির উপরের অংশ যদি ডায়াফ্রামে চাপ দেয়, তাহলেও বুকে ব্যাথা হয়। এক্ষেত্রে বুকের বাম পাশে ব্যাথা, পেট ব্যাথা, অম্বল, খাবারে অরুচি দেখা দেয়। এটাও গ্যাস্ট্রিকের সঙ্গে সম্পৃক্ত যেটাকে গ্যাস্ট্রোসোফেজিয়াল, জিআই বলা হয়ে থাকে।
বুকের পেশিতে টান লাগা (Pulled muscles and chest wall injuries)
আমাদের বুকের অভ্যন্তরে যে-সব পেশি রয়েছে, সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বুকে ব্যাথা হতে পারে। যখন আমরা গভীর নিশ্বাস নেই বা কাশি, তখন পেশিতে টান লাগতে পারে। আর বুকের পেশিতে এই অযাচিত টানের কারণেও বুকে ব্যাথা হয়ে থাকে। এমনকি, এ টানের কারণে পাঁজরের হাড় ভেঙ্গে গেলেও বুকের পেশিতে আঘাত লাগতে পারে।
ফুসফুসে সমস্যা (Problem with lungs)
ফুসফুসে যে-কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে সেটা ব্যাথার দিকে মোড় নিতে পারে। সাধারনত প্লুরাতে (ফুসফুসের বহিঃপর্দা) প্রদাহ, ফুসফুসে পানি জমা, ফুসফুসের রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধা, বা ফুসফুস ক্যান্সারের কারনে বুকের ডান দিকে ব্যাথা হয়।
খাদ্যনালীর সমস্যা (Esophagal problem)
খাদ্যনালী মাঝে মাঝে চেপে যেতে পারে, এর ফলে খাবার গিলতে সমস্যা হয়। আবার এখানে যে-সব এসিড পাওয়া যায়, এদের পরিমান কম বেশি হতে পারে। খাদ্যনালীর সমস্যা হলে মাঝে মাঝে বুকে ব্যাথা হতে পারে।
নিউমোনিয়া (Pneumonia)
বুকে ব্যাথা কারণ হিসেবে নিউমোনিয়াও দায়ী হয়ে থাকে। ঠান্ডা লাগলে বা বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া দ্বারা নিউমোনিয়া হতে পারে। এটি সাধারণত ছোট বাচ্চাদের হয়ে থাকে। তবে, বয়স্ক মানুষেরও Pneumonia বা নিউমোনিয়া দেখা যায়। আর উভয়ের ক্ষেত্রেই এটি বুকে ব্যাথার সৃষ্টি করতে পারে।
নিউমোথোরাক্স (Pneumothorax)
ফুসুফুসের কোনো অংশ যদি একদিকে চেপে যায়, তাহলে বুকে ব্যাথা হয়। কারণ, একদিকে চেপে যাওয়ার কারণে পর্যাপ্ত বাতাস ফুসুফুসে ঢুকতে পারে না। এর ফলে সমগ্র বুকে তীব্র বাথা হয়। সেই সাথে মাথা ঘোরা ও বমিও হতে পারে।
যক্ষা বা টিবি (Tuberculosis)
যক্ষা হলে বুকে ব্যাথা হয়, এটা আমরা সকলেই জানি। তিন সপাহের অধিক সময় ধরে কাশির সঙ্গে বুকে ব্যাথা হলে যক্ষা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। Mycobacterium tuberculosis নামে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার কারণে টিবি বা যক্ষা হয় যা অনেক সময় বুক ব্যাথার জন্যে দায়ী।
হাঁপানি (Asthma)
হাঁপানি হলো বহূল পরিচিত একটা রোগ যা বুক ব্যাথার সৃষ্টি করে। সাধারণত হাঁপানি হলে নিশ্বাস নিতে সমস্যা হয়। মনে হয় বুকে কি যেন চেপে আছে, অনুভব হয় নি:শ্বাসের সঙ্গে যে বাতাস নিচ্ছি তাতে অক্সিজেন নেই। ইনহেলার নিলে হাঁপানির কারণে সৃষ্ট বুক ব্যাথা থেকে সাময়িক মুক্তি পাওয়া যায়।
পেপটিক আলসার (Peptic Ulcer)
অতিরিক্ত সময় জুড়ে না খেয়ে থাকার ফলে পাকসস্থলিতে ঘাঁ (আলসার) হতে পারে। এ সময় পেটে ব্যাথা হয়। পেতে ব্যাথার সাথে বুকের নিচের অংশে মাঝে মাঝে ব্যাথা হতে পারে।
পিত্তথলীর সমস্যা (Gallbladder problems)
পিত্তথিলীর সমস্যা হলে বুকে ব্যাথা হতে পারে। আমরা যখন অতিরিক্ত চর্বি যুক্ত খাবার খাই, তখন এই ব্যাথা হয়। পিত্তথলীর সমস্যার কারনে সাধারণত ডান বুকের নিচের অংশে ব্যাথা হতে পারে।
অগ্নাশ্যয়ের সমস্যা (Pancreatitis)
খাদ্যের পরিপাকে অগ্নাশয় সাহায্য করে থাকে। ইনসুলিন নামক হরমোন অগ্নাশ্যয় থেকেই ক্ষরিত হয়। ইনসুলিন কমে গেলে ডায়াবেটিস দেখা দেয়। অগ্নাশ্যয়ে সমস্যা হলে বুকে ব্যাথা হতে পারে। চিৎ হয়ে শুয়ে থাকলে এ ব্যাথা বাড়ে, উঠে দাঁড়ালে কমে যায়।
শেষকথা
যে-কোনো অসুখ আমাদের বাস্তব জীবনে অনেকখানি প্রভাব ফেলে। আমাদের কথা বার্তা, আচরন, কাজের গতি সব কিছুই অসুস্থস্তার সাথে পরিবর্তিত হয়। আমরা সবাই আমাদের জীবনকে অনেক বেশি ভালবাসি। তাই, বুকে ব্যাথার কারণ হিসেবে উপরে যেগুলো বর্ণিত হলো, সেগুলোর মাঝে একটিও যদি আপনার মধ্যে থাকে, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
আমার মার বুকের বাম পাসে ১ মাস ধরে বাথা কি করা যায়।