৫০০০ টাকার বেশি অর্ডার করলেই ফ্রি ডেলিভারি।
English
You can use WPML or Polylang and their language switchers in this area.
0 $0.00

Cart

No products in the cart.

স্মার্টফোন কেনার আগে যে ৭টি বিষয় বিবেচনায় রাখবেন

স্মার্টফোন কেনার আগে যা করবেন

স্মার্টফোন কেনার আগে আপনাকে কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। অর্থাৎ, স্মার্টফোন কেনার গাইডলাইন ফলো করতে হবে। আপনারা অনেকেই হয়তো নতুন একটা স্মার্টফোন নেওয়ার কথা ভাবছেন। কিন্তু বুঝতে পারছেন না কিভাবে আপনার বাজেটের মধ্যে সেরা ফোনটি নিবেন।

আমাদের মধ্যে এমন আনেক মানুষ আছে যারা কিছু না ভেবেই হুট করে ফোন কিনে ফেলে। ফোন কেনার পরে তাদের আর আফসোসের শেষ থাকে না। এই টাকার মধ্যে এটা পেতাম, ওটা পেতাম আরো কত কি!

আবার অনেকই অনেক কিছু ভেবে চিন্তে ফোন কিনলেও কেনার পর ভাবে এই ফিচার হলে ভালো হতো, ওটা হলে ভালো হতো! কেউ আবার অপ্রয়োজনীয় কিছু ফিচারের জন্য ফোনের পিছনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে। আশা করি, এই পোস্টটি পড়লে আপানাকে আর এ সব বিষয় নিয়ে আফসোস করতে হবে না।

অনেকেই হয়তো ভাবছেন যে একটা ফোন কিনতে এতো ভাবার কি আছে? আসলে যারা তেমনভাবে ফোন ইউজ করেন না, তাদের কাছে এটা কোন ব্যাপারই না। কিন্তু যারা ডেইলি বিভিন্ন কাজে ফোন ইউজ করেন, তাদের কাছে এটা অনেক গুরুতপূর্ণ বিষয়।

ধরুন, আপনি গেমিং করতে একটা ফোন নিতে চাইছেন তাহলে আপনাকে ভালো প্রসেসর আর ব্যাটারির দিকে নজর রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে, ভালো ক্যামেরার জন্য অর্থ ব্যায় করে তো দরকার নেই। এমনিতেই বাজারে ভাল ক্যামেরার অনেক স্মার্টফোন রয়েছে। পাশাপাশি, আপনাকে জানতে হবে গেমিং এর জন্য কোন প্রসেসরটা ভালো হবে। তাই আজকে আমি জানাতে চলেছি স্মার্টফোন কেনার আগে কি কি বিষয় বিবেচনায় রাখবেন এবং কিভাবে আপনি আপনার বাজেটের সেরা ফোনটি কিনতে পারবেন।

স্মার্টফোন কেনার গাইডলাইন

স্মার্টফোন কেনার আগে যা করবেন

১। প্রসেসর

কম্পিউটার হোক আর মোবাইল হোক, উভয় ক্ষেত্রেই প্রসেসর কি আর এটি কিভাবে কাজ করে তা আপনাদের অনেকেরই জানা। এটাও নিশ্চয়ই অনেকেই জানেন যে, প্রসেসর ভালো না হলে কোন ফোন থেকেই ভালো পারফরমেন্স আশা করা যায় না। অ্যাপেল ও স্যামসাং ছাড়া প্রায় সব ফোন ব্র্যান্ড SnapdragonMediatek এর প্রসেসর ব্যবহার করে থাকে। প্রসেসরে বিবেচনায় রাখার মতো বিষয় হলো-

ক্লকস্পীডঃ যদি আপনি আগে কোন ফোনের স্পেসিফিকেশন চেক করে থাকেন, তাহলে দেখবেন যে লেখা আছে 1.4GHz, 1.7GHz বা 2.4GHz, আসলে এটা হচ্ছে প্রসেসরের ক্লকস্পীড। ক্লকস্পীড যত বেশি হবে, প্রসেসরের পারফরমেন্স ও ওভারঅল স্পীড তত ভালো হবে।

চিপসেটঃ ধরুন, কোন ফোনে Snapdragon 665 (12nm) এর চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে 665 হচ্ছে প্রসেসরের মডেল। 12nm হচ্ছে এর প্রসেসরে ব্যবহারিত একাধিক ট্রানজিস্টরের মধ্যকার দূরত্ব । এ দূরত্ব যত কম হবে প্রসেসরের স্পীড তত বেশি হবে। অর্থাৎ (12nm) প্রসেসরের চেয়ে (7nm) প্রসেসরের স্পীড ও পারফরমেন্স অনেক বেশি।

যদি আপনি গেমিং করার জন্য ফোন কিনতে চান, তাহলে আপনি Snapdragon এর প্রসেসর নিতে পারেন। Snapdragon মিডরেঞ্জের প্রসেসরও অনেক ভালো। এটির সুবিধা হলো এটা খুব কম গরম হয় এবং এর গ্রাফিক্স আউটপুট ও ভালো।

২। র‍্যাম

স্মার্টফোন বলেন, আর কম্পিউটার বলেন, উভয় ডিভাইসের জন্যে জানা দরকার র‌্যাম কি আর এটি কিভাবে কাজ করে। র‍্যামের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে র‍্যাম টাইপ। LPDDR3 হচ্ছে পুরাতন র‍্যাম টাইপ। LPDDR4X হচ্ছে লেটেস্ট র‍্যাম টাইপ তাই এর স্পীড অনেক বেশি হয়। তাই যত GB র‍্যামই নেন না কেন লেটেস্ট র‍্যাম টাইপ নেওয়ার চেষ্টা করবেন। স্মার্টফোন কেনার আগে বিবেচ্য বিষয়গুলোর অন্যতম হচ্ছে র‌্যাম টাইপ।

৩। স্টোরেজ

অনেকে ভাবে যে যত বেশি স্টোরেজ হবে, ফোনের স্পীড তত বাড়তে থাকবে অর্থাৎ বেশি হবে। আবার অনেক মনে করেন যে , ফোনে স্টোরেজ ফাকা রাখলে ফোনের স্পীড বেশি হয়। প্রথমটি সত্যি না হলেও, দ্বিতীয়টি কথাটি আংশিক সত্য। আসলে এক্ষেত্রে ফোনের স্পীড নির্ভর করে ফোনের স্টোরেজ টাইপের উপর।

ফোনে সাধারনত ৩ ধরনের স্টোরেজ টাইপ থাকে। এগুলো হলো-

  • eMMC storage
  • UFS 2.1 storage ও
  •  UFS 3.0 storage

এই ৩ টাইপের স্টোরেজের মধ্যে UFS 3.0 সব থেকে বেশি ফাস্ট ও পাওয়ারফুল। UFS 2.1 প্রায় UFS 3.0 এর মতো। তবে, এর রিডং ও রাইটিং স্পীড একটু কম। আবার, eMMC স্টোরেজের স্পীড এদের তুলনায় অনেক কম এবং এর একটি প্রধান অসুবিধা হল এ স্টোরেজ টাইপে রিডিং ও রাইটিং একসাথে করা যায় না। তাই, বর্তমান সময়ে এ স্টোরেজ টাইপ না কেনাই ভালো হবে।

৪। ব্যাটারি

আপনি যদি প্রতিদিন ইউটিউব, ইন্টারনেট ও ফেসবুক ব্রাউজিং করে থাকেন, তাহলে ব্যাটারি লাইফ অনেক বড় ভূমিকা রাখে। আর গেমিং করলে তো কোন কথাই নেই। লংটাইম গেমিং এর জন্য খুব ভালো ব্যাটারি প্রয়োজন।

ডে টু ডে ইউজের জন্য নুন্যতম 4000 MAH ব্যাটারি নিন। এতে অন্তত একদিন অন টাইম পেয়ে যাবেন। আর যদি দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারির দিক থেকে সেরা ১০টি স্মার্টফোন এর থেকে বাছাই করে যে-কোনটি কিনে নেন, তবে তো আর এ নিয়ে আপনাকে ভাবতেই হবে না।

৫। ক্যামেরা

বর্তমানের ফোনগুলোতে 48MP, 60MP, 64MP ও 108MP ক্যামেরা একটা কমন ব্যাপার হয়ে গেছে। সবাই ভাবছে ক্যামেরার MP যত বেশি হবে, ছবি তত ভালো হবে। আসলে বিষয়টা এমন না। জেনে হয়তো অবাক হতে পারেন যে, 12MP ক্যামেরা দিয়েও 64MP বা 48MP ক্যামেরার মতো ছবি তোলা যায়।

অনেক সময় দেখা যায় যে, 12MP ক্যামেরার ছবিই ভালো হয়েছে। এখানে আসল খেলা হচ্ছে ক্যামেরা সেন্সরের। বেশিরভাগ ফোনগুলোতে SonySamsung এর ক্যামেরা সেন্সর ব্যবহার করা হয়। তবে Samsung এর ক্যামেরা সেন্সরের চেয়ে Sony এর ক্যামেরা সেন্সর একটু বেশি ভালো। তাই, ক্যামেরা MP এর পিছনে না ছুটে ভালো ক্যামেরা সেন্সরের ফোন নেওয়ার চেষ্টা করুন। স্মার্টফোন কেনার আগে যে-সব বিষয় গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিৎ তার মাঝে অন্যতম ক্যামেরার সেন্সর বোঝা।

৬। ডিসপ্লে

ফোনে ভিডিও দেখলে বা গেম খেললে আপনি Oled, Amoled বা sAmoled ডিসপ্লে নিতে পারেন। এ সব ডিসপ্লের সুবিধা হলো এটা খুব কম ব্যাটারি ব্যবহার করে এবং ডিসপ্লেগুলো কালার ভাইব্রেন্ট। যদি আপনি বেশিরভাগ সময় আউটডোরে আপনার ফোন ব্যবহার করেন, তাহলে LCD ডিসপ্লে নিতে পারেন।

LCD ডিসপ্লে বেশি ব্রাইট বলে খুব সহজে আউটডোরে ব্যবহার করতে পারেন। তবে, এ ডিসপ্লের একটি অসুবিধা হলো এটি বেশি ব্যাটারি ইউজ করে এবং নেগেটিভিটি বেশি।

৭। বিল্ড কোয়ালিটি

আপনাদের মধ্যে এমন মানুষ হয়তো অনেক কম মিলবে যারা হাত থেকে মোবাইল ফেলেনি। আপানার সাধ্যের মোবাইলটি যদি হাত থেকে পড়ে ভেঙ্গে যায়, তাহলে কি অনুভুতি হবে তা হয়তো আন্ধাজ করতে পারছেন। তাই, স্মার্টফোনের বিল্ড কোয়ালিটি অনেক ভালো হওয়া জরুরি। গ্লাস ব্যাক বা প্লাস্টিক ব্যাক ফোন নিলে ব্যাক কভার ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। গ্লাস ব্যাক নিলে করনিং গরিলা গ্লাসের প্রটেকশন সমৃদ্ধ গ্লাস ব্যাক নিতে পারেন। এতে ফোন পড়ে ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভবনা কম থাকে।

আপানার বাজেট যদি কম হয়ে থাকে, তাহলে হয়তো আপনি সবকিছু ভালো নিতে পারবেন না। তাছাড়া আপনি যে কারনে ফোন নিতে চাইছেন সেটা মাথাই রেখে ফোন কিনুন। যেমনঃ ইন্টারনেট ব্রাউজিং এর জন্য ফোন নিতে চাইলে ভালো ডিসপ্লে আর ব্যাটারি দরকার। সেক্ষেত্রে, ক্যামেরার জন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ করার দরকার নেই। আবার, ছবি তোলা যদি মুল উদ্দেশ্য হয়, তাহলে ভালো ডিসপ্লের জন্য অর্থ ব্যয় করা ছাড়া উপায় নেই। তাই, আপনার প্রয়োজন আনুসারে ফোন কিনুন, অযথা অর্থ নস্ট করবেন না।

স্মার্টফোন কেনার আগে অন্যান্য বিবেচ্য বিষয়

স্মার্টফোন কেনার গাইডলাইন হিসেবে উপরের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছাড়াও আরো কিছু ব্যাপার আছে যা বিবেচনায় রাখলে ফোন কিনে আপনার পুরো সন্তুষ্টি আসবে। এর মাঝে অন্যতম একটি ফোনের ডিজাইন। প্রতিটি ফোনেরই নিজস্ব ডিজাইন কাঠামো রয়েছে। যার ফলে, মানুষ তার রুচি ও চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন ডিজাইন পছন্দ করে থাকে। বাজারে থাকা বিভিন্ন ডিজাইনের স্মার্টফোনের মধ্যে অনেকের পছন্দের একটি হচ্ছে নচ। তবে, সবাই নচ খোঁজে বলে আপনাকেও যে এটি দেখতে হবে, এমন নয়। আপনি দেখে-শুনে নিজেই একটা ডিজাইন পছন্দ করুন।

এরপর বিবেচনায় রাখতে পারেন অপারেটিং সিস্টেম। নানা রকম অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে রয়েছে-

  • অ্যান্ড্রয়েড – আমাদের দেশে প্রায় সবাই এটিই ব্যবহার করে থাকে।
  • আইওএস – এটি কেবল Apple বা আইফোনের জন্য যার ব্যবহারকারী আমাদের দেশে খুবই কম।
  • Windows – এই অপারেটিং সিস্টেমের ফোন লাখে ২/১ জনের হাতে দেখা যায়।
  • RIM – এক কালের লাক্সারি ফোন Black Berry এর জন্য এটি, আমাদের দেশে এখন নাই বললেই চলে।

যাইহোক, আমি পরামর্শ দেবো অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের ফোনই ব্যবহার করতে। কারণ, এটির সুবিধার শেষ নেই এবং সেগুলো আপনিও জানেন।

এরপর, বিবেচনায় আনতে পারেন ফোরজি সুবিধার কথা। ফোন কেনার সময় অবশ্যই বিক্রেতার কাছ থেকে জেনে নেবেন যে এটি ফোরজি সাপোর্ট করবে কিনা। আপনি নিজেও ক্যাটালগ দেখে এটি নিশ্চিত হতে পারেন।

আরো একটি বিষয় বিবেচনায় রাখা জরুরি আর সেটি হচ্ছে বিক্রয়ত্তোর সেবা। আর এ সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্ট হচ্ছে ওয়ারেন্টি। কাজেই, দেখে নিন যে ফোনটি কিনতে যাচ্ছেন, সেটির ওয়ারেন্টি রয়েছে কিনা।

শেষ কথা

আজকে আপনাদের জানালাম স্মার্টফোন কেনার আগে আপনাকে কি কি বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। আশা করি, উক্ত বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে আপনি আপনার বাজেটের মধ্যে সেরা ফোনটি কিনতে পারবেন। যদি এই পোস্টটি আপনাদের জন্য হেল্পফুল হয়ে থাকে, অর্থাৎ স্মার্টফোন কেনার সঠিক গাইডলাইন পেয়ে থাকেন, তাহলে শেয়ার করুন। আপনাদের বন্ধুদের মধ্যে যারা নতুন ফোন কিনতে চাইছে, তাদের সাথে পোস্টটি শেয়ার করলে তারাও উপকৃত হবে।

You might be interested in …

5 Comments

  1. ১০ -১৫ হাজার টাকার মধ্যে বেস্ট মোবাইলগুলো নিয়ে একটা আর্টিকেল দেন।

    1. ধন্যবাদ Sajid imon। খুব তারাতাড়ি এটা নিয়ে একটা আর্টিকেল প্রকাশ করা হবে।

  2. অসাধারণ একটি রিভিউ দিয়েছেন ভাইয়া। স্মার্টফোন কেনার পূর্বে করণীয় বিষয়ে এই পোস্টটি আমার খুব কাজে দিয়েছে। যখনই নিজের জন্য নতুন একটি স্মার্ট ফোন নেয়ার চিন্তা করলাম, অমনি আপনার পোস্টটা সামনে পড়লো। অসাধারণ কিছু আইডিয়া নিলাম যেটা আমাকে আমার কাঙ্খিত ফোন কিনতে অনেক সহায়তা করবে।

    – ধন্যবাদ ভাইয়া 🙂

  3. ধন্যবাদ Tafsina Khanam। আরো অসাধারণ সব আর্টিকেল পেতে হৈচৈ বাংলাতে চোখ রাখুন।

  4. ধন্যবাদ, স্মার্টফোন কেনার আগে বিবেচ্য বিষয়গুলো বিশদভাবে উপস্থাপনের জন্যে। ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে আটিকেলটি পড়ে ভালো লেগেছে, সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন প্রতিটি বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Our Newsletter

Receive a 30% discount on your first order