কলেজের খরচ বাড়ছে দিন দিন। বাবা-মা’র প্রেশারও বাড়ছে সমান তালে। আপনিও ভাবছেন কী করা যায়! কিভাবে নিজের খরচ নিজেই তোলা যায়, বাবা-মা’কে একটু শান্তির ছায়া দেখানো যায়। ছোট ভাইটাকে একেক সময় একেক উপহার দিয়ে একটু বাড়তি আদর দেখানো যায়, যাতে সে পড়াশুনায় আরো মনোযোগী হয়ে ওঠে। ছোট বোনটাও তো মাঝে মাঝে হাত পেতে বসে থাকে পড়ার টেবিলটা গুছিয়ে দিয়ে। কিংবা ঘুমোনোর আগে বিছানাটা ঝেড়ে দিয়ে, মশারিটা টানিয়ে দিয়ে। এ মিষ্টি বায়নাটা তো ভালোই লাগে! কিন্তু কী করা!
করার আছে অনেক কিছু। দরকার শুধু জানা। আর আমাদের কাজ আপনাকে জানানো। জেনে নিন স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে পড়াকালীন সময়েই কিভাবে সোশাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে কাজ করবেন। আর ইনকাম করবেন ঘন্টায় ১৫ থেকে ৪০ ডলার বা ১১২৫ থেকে ৩০০০ টাকা। ঘরে বসেই আপনি আয় করতে পারেন এমন একটা অংক যা দিয়ে আপনার পড়ার খরচ চলে যাবে, ছোট ভাই-বোনকে ভালবাসা উপহার দেয়ার মত আর্থিক অবস্থা তৈরি হবে। আর আপনিও প্রিয় বন্ধুদের আড্ডায় মাঝে মধ্যেই খরচ করতে পারবেন। জীবন সঙ্গী হিসেবে যাকে ভেবে রেখেছেন, তারও মন জয় করতে পারবেন। তার কাছে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারবেন অন্যদের থেকে আলাদাভাবে। জেনে নিন পড়াকালীন সোশাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে কি কাজ করতে হবে আর কিভাবে করতে হবে। প্রস্তুতি নিন আজই আর শুরু করুন ইনকাম।
- ইউটিউবে আয় তার বছরে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
- ইউটিউব ভিডিও তৈরি করার ১০ টি সেরা আইডিয়া
- ইউটিউব থেকে এ মেয়ের আয় ৬ লক্ষ ডলার
সোশাল মিডিয়া ম্যানেজার – ঘন্টায় ১৫ থেকে ৪০ ডলার
একটা কোম্পানীর সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট দেখাশুনা করা দারুণ একটা কাজ। একদিকে যেমন আয় করা যায়, অন্যদিকে অনেক কিছু শেখা যায়। ব্যবসা সম্পর্কে ভাল ধারণা হয় যা ভবিষ্যতেও কাজে লাগার সম্ভাবণা তৈরি করে রাখে।
একজন সোশাল মিডিয়া ম্যানেজারকে বিভিন্ন সোশাল প্লাটফর্মের সাথে পরিচিত হতে হয়। ফলে, একটা বিশাল মার্কেটিং জগৎ খুলে যায় তার চোখের সামনে, মুখোমুখি হতে হয় কত রকম মজার মজার অভিজ্ঞতার, তৈরি হয় একটা ভাল মার্কেটিং বেজ যা পরবর্তীতে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ কাজে দেয়। আজকাল কোম্পানীগুলো তাদের সেলস্ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সোশাল মিডিয়া মার্কেটিংকে অনেক গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই, কারো যদি এ যোগ্যতাটি থাকে, সেটা চাকরি দাতাদের কাছে একটা এক্সর্টা যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।
কি কাজ করতে হবে?
কোম্পানীর ফেসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস, লিংকড্ইন, ইউটিউব, পিন্টারেস্ট, ট্রাম্বলার, ইনস্টাগ্রাম, ফ্লিকার, রেড্ডিট, স্নেপচ্যাট, হোয়াটস্অ্যাপ, কোরা, নিউজ বাইন, স্টাম্বলআপনসহ আরো অনেক সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চালাতে হবে। পেজগুলো মেনটেন করতে হবে। মজার মজার পোস্ট দিয়ে পেজগুলোকে অ্যাক্টিভ রাখতে হবে। ফলোয়ার কিংবা কাস্টমারদের পোস্টগুলো মডারেট করতে হবে। তাদের সাথে কথা বলতে হবে, তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। সমস্যার সমাধান দেখাতে হবে। কাস্টমারদের ম্যানেজ করতে হবে। সর্বোপরি, এ সব প্লাটফর্মে সব ধরণের ইউজারদের কাছে কোম্পানীর পন্যের প্রচার করতে হবে।
কাজ পাবেন কোথায়?
কাজ পাবেন বহু জায়গায়, কোথাও কাজের কোন অভাব নেই। কিন্তু বেশি জায়গায় দৌড়াদৌড়ি না করে আপাতত আপওয়ার্কেই দেখুন। যে পেজটি আপনি দেখছেন এখন, সেটা সব সময় এ রকম থাকবে না। কারণ, নতুন নতুন কোম্পানীর নতুন নতুন জব অফার আসবে, এ অফারগুলো পেছনে যাবে, নতুনগুলো সামনে থাকবে। আর আপনার জন্য খোলা থাকবে প্রত্যেক কোম্পানীর দরজা। যে কোন সময় যে কোন কোম্পানীর সোশাল মিডিয়া ম্যানেজার, প্রমোটার বা ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে কাজ করতে পারবেন।
কিভাবে শুরু করতে হবে?
আপওয়ার্কে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন। অ্যাকাউন্ট খোলা শেষ হলে কয়েক দিন সাইটটা ঘাঁটাঘাটি করুন। সবকিছু ভাল করে দেখে নিন। নিয়ম কানুনগুলো পড়ে নিন। মাঝে মাঝেই আপনার মেইল চেক করুন। আপনাকে কেউ ইনভাইটেশন পাঠালে আপনার মেইলে নোটিফিকেশন পাবেন। তবে প্রথম দিকে ইনভাইটেশন পাওয়ার সম্ভাবণা খুব কম। কারণ, আপনি এখনো এন্ট্রি লেবেলে আছেন। আপওয়ার্কে এখনো আপনার প্রোপাইল ভালভাবে বিল্ডআপ হয় নাই। তাহলে উপায়?
উপায় হচ্ছে ক্লায়েন্টের জব পোস্টে বিড করা, ক্লায়েন্টদের পোস্টের বিপরীতে প্রপোজাল দেয়া। কিন্তু কিভাবে বিড করবো বা প্রপোজাল দেবো? একদম সহজ, একটু ভাল করে খেয়াল করলেই জেনে যাবেন কোথায় কী আছে। আসলে সব নিয়ম কানুনই দেয়া আছে, পড়ে নিন। এ জন্যই বলেছি প্রথম কয়েক দিন ভালভাবে ঘাটাঘাটি করুন, একটু পড়াশুনা করুন। পড়াশুনা না হয় করলাম কিন্তু ক্লায়েন্টদের জব পোস্ট পাবো কোথায় যে প্রপোজাল দিবো বা বিড করবো?
আপনাকে পেতে হবে না, আপওয়ার্কেই আপনাকে পাইয়ে দেবে। মানে জানিয়ে দেবে। আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকলেই দেখবেন অ্যাকাউন্ট খোলার সময় আপনি যে যে কাজ করতে চান বলে উল্লেখ করেছেন সে ধরণের কাজে লোক চেয়ে যে-সব পোস্ট পড়েছে তার সবই আপনার প্রোপাইলে এসে পড়েছে। সুতরাং আপনাকে অন্য কোথাও খুজতে হবে না। আপনার অ্যাকাউন্ট থেকেই দেখতে পারবেন এবং বিড করতে পারবেন কিংবা প্রপোজাল দিতে পারবেন।
যদিও এ লেখার শিরোনামে সোশাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে কাজ করার কথা বলা হয়েছে, আপনি কিন্তু আপওয়ার্কে অন্যান্য যে কোন কাজই করতে পারবেন। এখানে শত শত কাজের ক্যাটেগরি রয়েছে এবং প্রতিটি ক্যাটেগরিতেই হাজার হাজার কাজ রয়েছে। বেচে নিন আপনার কাজটি, শুরু করুন ইনকাম। আর এ লেখাটি শেয়ার করে এবং আমাদের ফেসবুক পেজ এ লাইক দিয়ে আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকতে ভুলবেন না যেন। অনলাইনে সোশাল মিডিয়া নিয়ে কাজ করে সফল হতে আপনার জন্য আমাদের শুভকামনা রইলো। কোন কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে কিংবা কোন কিছু জানার থাকলে নিচে কমেন্টের ঘরে লিখে আমাদের জানান। আপনাকে সহযোগীতা করার জন্য টেক ট্রেইনি পরিবার সব সময়ই প্রস্তুত।
সবকিছু কি ইংলিশে থাকবে নাকি???
হ্যাঁ, তামিম ভাই, সবকিছু ইংলিশেই থাকবে, সবকিছু বলতে ক্লায়েন্টের সঙ্গে আপনার কমিউনিকেশনটাই প্রধান। বাইরের ক্লায়েন্ট তো আর বাংলায় কমিউনিকেট করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে আমাদেরকেই ওদের ভাষায় মানে ইংলিশে কমিউনিকেট করতে হবে। তবে এটা খুব একটা কঠিন কাজ নয়, ইংরেজীতে দক্ষ হওয়ার পেছনে একটু জোর দিন। অবসর সময়ে ইংরেজী শেখার জন্য এই অ্যাপগুলো আপনার কিছুটা হলেও উপকারে আসবে।
আপওয়ার্কে কি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে কাজ করা যাবে নাকি ল্যাপটপ লাগবে?
আসলে আপওয়ার্ক কেন, যে কোন সাইটেই অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল দিয়ে কাজ করা যাবে। তবে, সবচেয়ে ভাল হয় ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ দিয়ে কাজ করলে। মোবাইলের স্ক্রিণ ছোট হওয়ায় অনেক সময় কাজ করতে কিছু অসুবিধার সন্মুক্ষিণ হতে হয়। যেমন, একটা ওয়েবসাইটের রাইট কিংবা লেপট্ সাইডবার নিচে চলে যায়। কোন টেবিল কন্টেন্ট থাকলে সেগুলো কয়েক ঘরে ভেঙ্গে যায়। তখন কিছু কিছু ব্যাপার বুঝতে অসুবিধা হয়।
আমি কিভাবে আপওয়ার্কে একাউন্ট খুলতে পারবো? যদি কোনও টিউটোরিয়াল থাকে, তো আমাকে জানান, প্লিজ।
এখান থেকে আপওয়ার্কে একাউন্ট খোলার নিয়ম জেনে নিন।
vaia ko kaj ta beshi easy hobe upwork a…
ভাইয়া,,,,
মিডিয়া একাউন্ট কি এন্ড্রয়েড মোবাইল দিয়ে খোলা যায়?
আর কীভাবে ভাইয়া?
আসলে আমি একটা জব পাইছি তো তাই,,,
আমাকে মিডিয়া একাউন্ট খোলার জন্য বলা হয়েছে…..
৫টি….এখন কীভাবে কি করবো বুঝতে পারছি না।
প্লিজ প্লিজ প্লিজ ভাইয়া একটু বলে দিন💝🙏🙏
মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বলতে কি আপনি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের কথা বলছেন? শুধু সোশ্যাল মিডিয়াই নয়, যে কোনও অ্যাকাউন্টই অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল দিয়ে খোলা যায়। মিডিয়াগুলো যদি ভিন্ন ভিন্ন হয়, তবে অ্যাকাউন্ট খুলতে আপনার কোন সমস্যাই হবে না। আর যদি ৫টি অ্যাকাউন্টই একই মিডিয়ায় হয়, তবে একটু ঝামেলায় পড়তে পারেন। যেমন, আপনাকে যদি ৫টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলতে বলা হয় কিংবা ৫টিই টুইটার অ্যাকাউন্ট হয়, তবে অ্যাকাউন্ট খুলতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন। কাজেই, কোথায় ও কি ধরণের অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে তা আমাদের বিস্তারিত জানান। আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগীতা করা সম্ভব, ততটুকু সহযোগীতা অবশ্যই করা হবে।
মোবাইল দিয়ে এসব সাইটে উল্লেখিত কাজটি করা যাবে?
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয় করার উপায় সম্পর্কে সাহায্যকারি একটি পোষ্ট, পড়ে এসএমএম হওয়ার উপায় শিখতে পারলাম।