ব্রেস্ট ক্যান্সার কি, কেন ও কিভাবে হয়? লক্ষণ, পরীক্ষা, চিকিৎসা ও খরচ

ব্রেস্ট ক্যান্সার বা স্তন ক্যান্সার বর্তমান সময়ে নারীদের সবচেয়ে সাধারণ এবং আলোচিত ক্যান্সারের মধ্যে একটি। এটি শুধুমাত্র একটি শারীরিক অসুস্থতা নয়, বরং একটি মানসিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জও বটে।
আজকে আমরা ব্রেস্ট ক্যান্সার সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো — কী এটি, কেন হয়, লক্ষণ, পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধের উপায়।
এক নজরে দেখে নিন যা আছে এই লেখায়-
ব্রেস্ট ক্যান্সার কী?
ব্রেস্ট ক্যান্সার হলো স্তনের কোষগুলোর অস্বাভাবিক ও অস্বাস্থ্যকর বৃদ্ধি যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে ক্যান্সারে রূপ নেয়। এটি মূলত দুধের নালী (milk ducts) অথবা গ্রন্থি (lobules) থেকে শুরু হয়, পরে ধীরে ধীরে আশপাশের টিস্যু এবং শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ব্রেস্ট ক্যান্সার কীভাবে তৈরি হয়?
মানবদেহের প্রতিটি কোষ নিয়মমাফিক বিভাজনের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় ও নিজের কাজ করে। কিন্তু যখন কোনো কোষ জেনেটিক মিউটেশন (DNA পরিবর্তন) বা হরমোনের প্রভাবে অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে এবং নিজের মৃত্যু না ঘটিয়ে অবিরত বিভাজিত হতে থাকে, তখন টিউমার গঠিত হয়। এই টিউমার যদি ক্যান্সারজাত (malignant) হয়, তবে তা আশেপাশের টিস্যু নষ্ট করতে পারে এবং শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে যেতে পারে।
ব্রেস্ট ক্যান্সার কোথা থেকে শুরু হয়?
ব্রেস্ট ক্যান্সার সাধারণত শুরু হয় দুটি জায়গা থেকে:
Ductal Carcinoma:
- দুধ বহনকারী নালী (duct) থেকে ক্যান্সার শুরু হয়। এটি সবচেয়ে সাধারণ ধরণ।
Lobular Carcinoma:
- স্তনের দুধ উৎপাদনকারী গ্রন্থি (lobule) থেকে ক্যান্সার শুরু হয়।
ব্রেস্ট ক্যান্সারের ধরণ
ব্রেস্ট ক্যান্সার একক কোনো রোগ নয় — এটি বিভিন্ন ধরণের হতে পারে, যা স্তনের বিভিন্ন কোষ থেকে শুরু হয় এবং তাদের আচরণ ও বিস্তার ভিন্ন ভিন্ন হয়। মূলত দুই ভাগে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ধরণগুলোকে ভাগ করা যায়:
- নন-ইনভেসিভ বা ইন সিটু (Non-invasive / In Situ)
- ইনভেসিভ বা আক্রমণাত্মক (Invasive)
এর বাইরে আরও কিছু দুর্লভ ধরণের ক্যান্সার রয়েছে।
Ductal Carcinoma In Situ (DCIS) – নন-ইনভেসিভ
- অর্থ: “দুধের নালীর ভেতরে ক্যান্সার কোষ বিদ্যমান, কিন্তু ছড়ায়নি”।
- এটি ব্রেস্ট ক্যান্সারের সর্বপ্রথম পর্যায়ের ধরণ।
- এখনই চিকিৎসা শুরু করলে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব।
উল্লেখযোগ্য কারণ:
DCIS সময়মতো চিকিৎসা না করলে invasive ductal carcinoma-তে রূপ নিতে পারে।
Invasive Ductal Carcinoma (IDC) – ইনভেসিভ
- এটি ব্রেস্ট ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ ধরণ (প্রায় ৮০% কেস)।
- দুধের নালী থেকে শুরু হয়ে আশেপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে।
- ছড়িয়ে পড়তে পারে লিম্ফ নোড ও শরীরের অন্যান্য অংশে (Metastasis)।
উল্লেখযোগ্য লক্ষণ:
- চাকা, স্তনের গঠন পরিবর্তন, নিপল নিঃসরণ।
Invasive Lobular Carcinoma (ILC) – ইনভেসিভ
- স্তনের দুধ উৎপাদনকারী গ্রন্থি (lobules) থেকে শুরু হয়।
- ধীরে ধীরে টিস্যু ও শরীরের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে।
- IDC-র চেয়ে কম দেখা যায় (প্রায় ১০% কেস)।
চিহ্নিত করা কঠিন:
- অনেক সময় ম্যামোগ্রামে ধরা পড়ে না।
Lobular Carcinoma In Situ (LCIS) – নন-ইনভেসিভ
- এটি আসলে ক্যান্সার নয়, বরং ভবিষ্যতে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনার নির্দেশক।
- স্তনের দুধ উৎপাদনকারী অংশে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা যায়।
সতর্কতা:
LCIS থাকলে নিয়মিত স্ক্রিনিং জরুরি।
Triple-Negative Breast Cancer (TNBC)
- এই ক্যান্সারে Estrogen, Progesterone ও HER2 রিসেপ্টর থাকে না।
- ফলে সাধারণ হরমোন বা টার্গেট থেরাপি কাজ করে না।
- অল্প বয়সী নারী ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
চিকিৎসা:
- কেমোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা সম্ভব।
HER2-Positive Breast Cancer
- এই ধরণের ক্যান্সারে HER2 প্রোটিনের অতিরিক্ত উৎপাদন হয়।
- দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
- কিন্তু বর্তমানে বিশেষ টার্গেট থেরাপি (যেমন trastuzumab) দ্বারা সফল চিকিৎসা সম্ভব।
Inflammatory Breast Cancer (IBC) – বিরল ও আক্রমণাত্মক
- স্তনের চামড়া লাল হয়ে ফুলে যায় এবং গরম লাগে।
- গাঁট নাও থাকতে পারে।
- দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তাই দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
সাধারণ ভুল ধারণা:
অনেকেই এটি চর্মরোগ ভেবে উপেক্ষা করেন
Paget’s Disease of the Nipple
- নিপল ও এর আশেপাশের ত্বকে ক্যান্সার শুরু হয়।
- দেখা দেয় খোসা, চুলকানি, লালচে ভাব ও নিপল থেকে তরল নিঃসরণ।
- প্রায় সবক্ষেত্রেই ব্রেস্টের গভীরে আরেকটি ক্যান্সার উপস্থিত থাকে।
Metastatic Breast Cancer (Stage IV) – ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সার
এটি এমন অবস্থা যেখানে ক্যান্সার শরীরের অন্য অংশে (যেমন: হাড়, ফুসফুস, লিভার, মস্তিষ্ক) ছড়িয়ে গেছে
চিকিৎসা লক্ষ্য:
- রোগ নিয়ন্ত্রণ ও জীবনের মান রক্ষা
ব্রেস্ট ক্যান্সার একাধিক ধরণের হতে পারে এবং প্রতিটি ধরণের বৈশিষ্ট্য ও চিকিৎসা ভিন্ন। তাই সঠিকভাবে ধরণ নির্ণয় করা এবং উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রেস্ট ক্যান্সার কি শুধু নারীদের হয়?
না।
যদিও ৯৯% ক্ষেত্রে এটি নারীদের মধ্যে দেখা যায়, তবে পুরুষদের মধ্যেও বিরলভাবে এই ক্যান্সার দেখা দিতে পারে। পুরুষদের স্তনে টিস্যু অনেক কম থাকায় এটি কম হলেও অসম্ভব নয়।
ব্রেস্ট ক্যান্সারের প্রধান কারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়সমূহ
ব্রেস্ট ক্যান্সার একাধিক কারণে হতে পারে। যদিও অনেক ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট কোনো কারণ চিহ্নিত করা যায় না, তথাপি গবেষণায় এমন কিছু উপাদান পাওয়া গেছে যেগুলো এই রোগের সম্ভাবনা অনেকগুণ বাড়িয়ে তোলে। এসব কারণকে প্রধান কারণ (Primary Causes) ও ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়সমূহ (Risk Factors) নামে শ্রেণিবদ্ধ করা যায়।
প্রধান কারণসমূহ (Primary Causes)-
জেনেটিক মিউটেশন (Genetic Mutation)
- BRCA1 ও BRCA2 জিনের ত্রুটি থাকলে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেশি।
- এই জিন পরিবর্তন বংশানুক্রমে পরিবার থেকে পেতে পারেন।
কোষ বিভাজনের ত্রুটি
- শরীরের কোষগুলো যখন অস্বাভাবিকভাবে ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজিত হয়, তখন ক্যান্সার সৃষ্টি হয়।
হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতা
- অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন স্তনের কোষে অতিরিক্ত প্রভাব ফেলতে পারে, যা ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।
পরিবেশগত ক্ষতিকর উপাদান
- বিষাক্ত রাসায়নিক, রেডিয়েশন বা দূষণও স্তনের কোষকে পরিবর্তন করতে পারে।
ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়সমূহ
নিচে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে ঝুঁকিগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
বংশগত ও পারিবারিক ইতিহাস
- পরিবারে মা, বোন, খালা, ফুফু যদি ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, তবে ঝুঁকি বেড়ে যায়।
- বংশগতভাবে BRCA1 বা BRCA2 জিনের মিউটেশন থাকলে ৫০–৮৫% পর্যন্ত ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বয়স
- বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি বাড়ে।
- ৫০ বছরের পর নারীদের মধ্যে এই ক্যান্সারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
হরমোন ও প্রজনন সংক্রান্ত কারণ
- প্রথম পিরিয়ড খুব কম বয়সে হলে (১১ বছরের নিচে)।
- মেনোপজ দেরিতে হলে (৫৫ বছরের পরে)।
- সন্তান না হওয়া, বা প্রথম সন্তান ৩০ বছরের পরে হলে।
- বুকের দুধ না খাওয়ালে।
- দীর্ঘদিন জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল গ্রহণ বা হরমোন থেরাপি (HRT) নিলে।
জীবনধারা-সম্পর্কিত ঝুঁকি
- স্থূলতা – বিশেষ করে মেনোপজের পরে শরীরে ইস্ট্রোজেন উৎপাদন বেড়ে যায়
- ব্যায়ামের অভাব – শরীর নিষ্ক্রিয় থাকলে হরমোন ভারসাম্যহীন হয়
- ধূমপান – স্তনের কোষে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী পদার্থ পৌঁছায়
- মদ্যপান – অ্যালকোহল ইস্ট্রোজেন মাত্রা বাড়ায় এবং DNA ক্ষতিগ্রস্ত করে
- অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড ও চর্বিযুক্ত খাবার – দেহে চর্বি জমে ও কোষ বিভাজন ব্যাহত হয়
রেডিয়েশনের সংস্পর্শ
যেসব নারী কিশোর বয়সে বা তার আগে বুকে রেডিয়েশন চিকিৎসা পেয়েছেন (যেমন: হজকিনস লিম্ফোমার জন্য), তাদের ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে।
ওষুধ ও চিকিৎসা সম্পর্কিত কারণ
- জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল: দীর্ঘমেয়াদে সেবন করলে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা হতে পারে।
- Hormone Replacement Therapy (HRT): মেনোপজ পরবর্তী সময়ে হরমোন থেরাপি গ্রহণ করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
পূর্ববর্তী স্তন রোগ
- অতীতে benign (অক্যান্সারজনিত) টিউমার বা atypical hyperplasia থাকলে ভবিষ্যতে ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়ে।
ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ ও উপসর্গ
ব্রেস্ট ক্যান্সার অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো ব্যথা বা অসুবিধা ছাড়াই ধীরে ধীরে শরীরে গড়ে ওঠে। তাই নিজের স্তনে কোনো পরিবর্তন বা অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলেই সচেতন হওয়া জরুরি।
নিচে সাধারণ এবং কিছু অল্প পরিচিত লক্ষণ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
স্তনে চাকা বা গাঁট (Lump in the Breast)
- এটি ব্রেস্ট ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ।
- সাধারণত শক্ত, অনিয়মিত গঠনের এবং নড়াচড়া করে না।
- ব্যথাহীন হলেও হতে পারে, তাই ব্যথা না থাকলেই নিরাপদ ভাবা ঠিক নয়।
বিশেষভাবে লক্ষ্য করুন:
- চাকা যদি ধীরে ধীরে বড় হয় বা মাসিকের সঙ্গে পরিবর্তন না হয়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
স্তনের আকার বা আকৃতির পরিবর্তন
- একটি স্তনের আকার বা আকৃতি অন্যটির তুলনায় হঠাৎ পরিবর্তন হওয়া।
- স্তন ফুলে যাওয়া, চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়া বা বাঁকা মনে হওয়া।
স্তনের চামড়ায় অস্বাভাবিক গঠন
- চামড়া সাদা, লালচে বা কালচে হয়ে যাওয়া।
- চামড়া মোটা বা কমলা খোসার মতো দেখানো (Peau d’orange)।
- স্তনের কোনো অংশে গর্ত বা ভাঁজ পড়ে যাওয়া।
নিপলের (বোঁটার) পরিবর্তন
- নিপল ভিতরের দিকে ঢুকে যাওয়া (Inverted nipple)।
- নিপলের অবস্থান বা গঠন পরিবর্তন হওয়া।
- নিপলের চারপাশে চুলকানি, লালচে ভাব বা খোসা পড়া।
নিপল থেকে তরল নিঃসরণ
- নিপল থেকে স্বচ্ছ, হলুদ, রক্ত মেশানো বা দুধের মতো তরল বের হওয়া।
- বিশেষ করে যদি শুধুমাত্র এক দিক থেকে আসে।
বগলে বা গলার পাশে গাঁট (Lump in Armpit)
- স্তনের পাশে বা বগলের নিচে গাঁট অনুভব করা।
- এটি ক্যান্সারের ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত হতে পারে (lymph node involvement)।
স্তনে বা নিপলে ব্যথা (Pain)
- যদিও বেশিরভাগ ক্যান্সারে প্রাথমিকভাবে ব্যথা হয় না, তবে ক্যান্সার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
- ব্যথা যদি দীর্ঘমেয়াদে থাকে এবং সাধারণ কারণে না হয়, তবে সতর্ক হন।
ত্বকে ক্ষত বা ঘা
- স্তনের কোনো অংশে দীর্ঘ সময় ধরে ঘা বা ক্ষত থাকা।
- ঘা শুকায় না বা রক্তপাত হয়।
কম পরিচিত লক্ষণসমূহ
- স্তনের গরম অনুভব হওয়া।
- স্তনের চামড়া টানটান হয়ে যাওয়া।
- স্তনে ভারী বা টান টান লাগা।
- নিপলের রঙ পরিবর্তন।
লক্ষণ যাচাইয়ের ঘরোয়া পদ্ধতি
আপনি চাইলে মাসে একবার নিজেই ব্রেস্ট পরীক্ষা (Breast Self-Examination বা BSE) করতে পারেন:
- আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে উভয় স্তনের গঠন ও রঙ পর্যবেক্ষণ করুন।
- হাত মাথার ওপরে তুলে স্তনের পরিবর্তন দেখুন।
- হাতে হালকা চাপ দিয়ে স্তনের চারপাশ ও বগলে গাঁট খুঁজুন।
- নিপল হালকাভাবে চেপে তরল বের হয় কিনা দেখুন।
মনে রাখুন:
- সব গাঁট মানেই ক্যান্সার নয়। তবে অবহেলা করলে বিপদ বাড়ে।
- প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে ৯০% ক্ষেত্রেই চিকিৎসা সম্ভব।
- বয়স ৪০ পেরোলে বছরে অন্তত একবার চিকিৎসক দ্বারা স্তন পরীক্ষা এবং ৫০-এর পর ম্যামোগ্রাম করানো উচিত।
কীভাবে ব্রেস্ট ক্যান্সার নির্ণয় করা হয়?
ব্রেস্ট ক্যান্সার নির্ণয়ের প্রধান লক্ষ্য হলো:
- স্তনে কোনো গাঁট বা পরিবর্তন ক্যান্সার কিনা তা নিশ্চিত হওয়া,
- ক্যান্সার হলে সেটি কতটা ছড়িয়েছে বা কোন পর্যায়ে রয়েছে তা নির্ধারণ করা,
- উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা।
ব্রেস্ট ক্যান্সারের পরীক্ষা ও পদ্ধতি
চিকিৎসকেরা কয়েকটি ধাপে বিভিন্ন পরীক্ষা ও পদ্ধতি ব্যবহার করেন।
শারীরিক পর্যবেক্ষণ (Clinical Breast Examination – CBE)
চিকিৎসক হাত দিয়ে স্তন, নিপল ও বগলের চারপাশ স্পর্শ করে দেখেন:
- চাকা বা গাঁট আছে কিনা।
- আকার, রঙ বা ত্বকের পরিবর্তন।
- বগলের লিম্ফ নোডে কোনো ফোলাভাব।
প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ।
স্তন ইমেজিং পরীক্ষা (Breast Imaging Tests)
ম্যামোগ্রাম (Mammogram)
- এক্স-রে’র মাধ্যমে স্তনের অভ্যন্তরের ছবি তোলা হয়।
- ছোট টিউমার বা ক্যালসিফিকেশন শনাক্তে কার্যকর।
- ৪০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের বছরে ১ বার করা উচিত।
স্ক্রিনিং ও নির্ণয়ের জন্য সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি।
আল্ট্রাসনোগ্রাফি (Breast Ultrasound)
- চাকা তরল (সিস্ট) না কি শক্ত (সোলিড) তা শনাক্ত করে।
- যুবতীদের স্তনে ফ্যাটি টিস্যু কম থাকায় ম্যামোগ্রামের চেয়ে আল্ট্রাসাউন্ড বেশি কার্যকর হতে পারে।
ব্রেস্ট এমআরআই (MRI)
- চরম সংবেদনশীলতা সম্পন্ন পরীক্ষা।
- ঝুঁকিপূর্ণ বা জেনেটিক ইতিহাস থাকলে আরও নিখুঁতভাবে স্ক্যান করা হয়।
উচ্চ ঝুঁকির রোগী, অথবা আগের রিপোর্ট অস্পষ্ট হলে ব্যবহৃত হয়।
টিস্যু পরীক্ষা বা বায়োপসি (Biopsy)
- এটি ব্রেস্ট ক্যান্সার নিশ্চিতভাবে নির্ধারণের একমাত্র পদ্ধতি।
চিকিৎসক একটি সূঁচ বা যন্ত্র দিয়ে গাঁট থেকে টিস্যু বা কোষ সংগ্রহ করেন এবং পরীক্ষাগারে পাঠান।
বায়োপসি-এর ধরন:
- Fine Needle Aspiration (FNA) – সরু সূঁচ দিয়ে তরল বা কোষ সংগ্রহ।
- Core Needle Biopsy – মোটা সূঁচ দিয়ে টিস্যু টুকরা সংগ্রহ।
- Stereotactic Biopsy – এক্স-রে বা ম্যামোগ্রামের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অংশ থেকে নমুনা নেওয়া।
- Surgical Biopsy – গাঁট কেটে অপসারণ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো।
বায়োপসি-তে জানা যায়: এটি ক্যান্সার কি না, কোন ধরণের ক্যান্সার, ও কীভাবে চিকিৎসা হবে।
হরমোন ও রিসেপ্টর টেস্ট (ER/PR/HER2)
যদি বায়োপসিতে ক্যান্সার ধরা পড়ে, তাহলে নির্ধারণ করা হয়:
- এটি Estrogen বা Progesterone হরমোন রিসেপ্টর পজিটিভ কিনা
- HER2 প্রোটিন বেশি উৎপাদন হচ্ছে কিনা
এই পরীক্ষাগুলো ক্যান্সার ধরণ ও চিকিৎসা নির্ধারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে কিনা তা নির্ণয়ের জন্য স্ক্যান
যদি সন্দেহ থাকে যে ক্যান্সার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন করা হয়:
- CT Scan – ফুসফুস, লিভার, পেট ইত্যাদি
- PET Scan – ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে কিনা
- Bone Scan – হাড়ে ক্যান্সার ছড়িয়েছে কিনা
- Chest X-ray – ফুসফুসে ছড়িয়েছে কিনা
স্টেজ নির্ধারণ (Staging)
নির্ণয়ের পর ক্যান্সার Stage 0 থেকে Stage IV পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়, যা বোঝায়:
- 0: ক্যান্সার শুধু দুধের নালীতে সীমাবদ্ধ (DCIS)।
- I: ছোট গাঁট, আশপাশে ছড়ায়নি।
- II–III: গাঁট বড়, লিম্ফ নোডে ছড়িয়েছে।
- IV: শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়েছে (Metastatic)।
স্টেজ জানার মাধ্যমে চিকিৎসার পদ্ধতি ও সাফল্যের হার নির্ধারিত হয়।
ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা পদ্ধতি
ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা নির্ভর করে নিচের বিষয়গুলোর উপর:
- ক্যান্সারের ধরণ (ধারাবাহিকভাবে আগ্রাসী কি না)।
- ক্যান্সারের স্টেজ (০ থেকে IV পর্যন্ত)।
- রোগীর বয়স, স্বাস্থ্য অবস্থা।
- হরমোন রিসেপ্টর পজিটিভ/নেগেটিভ কিনা।
- ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে কিনা (Metastasis)।
চিকিৎসা পদ্ধতিগুলোকে মূলত ৫টি ভাগে ভাগ করা যায়:
সার্জারি (Surgery)
ক) Lumpectomy (লাম্পেকটমি)
- ক্যান্সারযুক্ত অংশ ও তার আশপাশের টিস্যু কেটে ফেলা হয়।
- স্তনের বেশিরভাগ অংশ অক্ষত থাকে।
- প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যান্সারে উপযুক্ত।
খ) Mastectomy (মাস্টেকটমি)
- পুরো স্তন কেটে ফেলা হয়।
- আক্রমণাত্মক বা ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সারে ব্যবহৃত।
বিভিন্ন ধরন:
- Simple Mastectomy
- Modified Radical Mastectomy
- Skin-Sparing বা Nipple-Sparing Mastectomy
গ) Lymph Node Surgery
- ক্যান্সার ছড়িয়েছে কি না বুঝতে বগলের লিম্ফ নোড কেটে পরীক্ষা করা হয়।
- Sentinel Node Biopsy ও Axillary Dissection করা হয়।
সার্জারির পর প্রায়ই রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপি প্রয়োজন হয়।
রেডিওথেরাপি (Radiation Therapy)
- উচ্চ-শক্তির রশ্মি (X-ray) ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়।
- Lumpectomy বা কিছু ক্ষেত্রে mastectomy’র পর ব্যবহৃত হয়।
- প্রতিদিন কিছু সময় ধরে, সাধারণত ৩-৬ সপ্তাহ ধরে দেয়া হয়।
চিকিৎসা স্থানিক (local), অর্থাৎ স্তন বা নিকটবর্তী এলাকায় কার্যকর।
কেমোথেরাপি (Chemotherapy)
- বিশেষ ওষুধ বা ইনজেকশন দিয়ে শরীরের সব ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার চেষ্টা।
- সাধারণত ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে, বা উচ্চ-ঝুঁকির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
- সার্জারির আগে (neoadjuvant) বা পরে (adjuvant) দেওয়া হয়।
সাধারণ কেমো ওষুধ:
- Doxorubicin (Adriamycin)
- Cyclophosphamide
- Paclitaxel
- Docetaxel
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে যেমন: বমি, চুল পড়া, দুর্বলতা, সংক্রমণ প্রবণতা।
হরমোন থেরাপি (Hormonal Therapy)
- যদি ক্যান্সার ER+/PR+ হয়, অর্থাৎ হরমোনের উপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে এই চিকিৎসা অত্যন্ত কার্যকর।
ব্যবহৃত ওষুধ:
- Tamoxifen – রিসেপ্টরে ইস্ট্রোজেন আটকে ক্যান্সার কোষ বড় হতে দেয় না।
- Aromatase inhibitors (Letrozole, Anastrozole) – ইস্ট্রোজেন তৈরি কমায়।
সাধারণত ৫ থেকে ১০ বছর ধরে চলতে পারে।
টার্গেটেড থেরাপি (Targeted Therapy)
- ক্যান্সার কোষের নির্দিষ্ট প্রোটিনকে লক্ষ্য করে কাজ করে।
- HER2-positive ক্যান্সারে ব্যবহৃত হয়।
ব্যবহৃত ওষুধ:
- Trastuzumab (Herceptin) – HER2 প্রোটিন বন্ধ করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে।
- Pertuzumab – Trastuzumab-এর সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করে।
সাধারণত কেমোথেরাপির সঙ্গে একত্রে প্রয়োগ করা হয়।
ইমিউনোথেরাপি (Immunotherapy)
- শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে।
- Triple Negative Breast Cancer (TNBC)-এ ব্যবহৃত হতে পারে।
নতুন ও উন্নতমানের চিকিৎসা পদ্ধতি — কেবল নির্দিষ্ট কেসে প্রয়োগ হয়।
বিশেষ চিকিৎসা পরিকল্পনা: কে কী চিকিৎসা পাবেন?
- প্রাথমিক স্টেজ (Stage 0–I) – সার্জারি + রেডিওথেরাপি বা হরমোন থেরাপি
- মধ্যম স্টেজ (Stage II–III) – সার্জারি + কেমোথেরাপি + রেডিওথেরাপি + হরমোন
- ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সার (Stage IV) – কেমোথেরাপি, টার্গেট থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি
- HER2+ ক্যান্সার – কেমো + Trastuzumab
- ER/PR+ ক্যান্সার – হরমোন থেরাপি
- TNBC – কেমো + ইমিউনোথেরাপি
চিকিৎসার পর যা করা উচিত:
- নিয়মিত ফলোআপ ও স্ক্যান।
- খাদ্য, ঘুম ও ব্যায়ামে ভারসাম্য।
- মানসিক সহায়তা ও কাউন্সেলিং।
- সম্ভাব্য রিকন্সট্রাকটিভ সার্জারি (স্তনের গঠন ফিরিয়ে আনতে)।
ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায়
যদিও ব্রেস্ট ক্যান্সার একটি গুরুতর রোগ, তবে আশার কথা হলো—সচেতনতা, সঠিক জীবনধারা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখুন
সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ করুন-
- প্রচুর ফল, সবজি, আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে।
- প্রক্রিয়াজাত, চর্বিযুক্ত ও ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন।
- ওমেগা-৩ যুক্ত খাবার যেমন মাছ খাওয়া ভালো।
অতিরিক্ত চিনি ও লবণ কমান-
- চিনি ও লবণ ব্রেস্ট ক্যান্সার বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে
শরীরচর্চা করুন
- প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করুন।
- শরীরচর্চা হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে ও স্থূলতা কমায়।
গবেষণায় দেখা গেছে –
- নিয়মিত একটিভ নারীদের ক্যান্সারের ঝুঁকি ২০–৩০% কম।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
- মেনোপজের পর অতিরিক্ত ওজন ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
- Body Mass Index (BMI) ১৮.৫–২৪.৯ রাখার চেষ্টা করুন।
ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন করুন
- ধূমপান স্তনের কোষে ক্ষতিকর পরিবর্তন ঘটায়। ধূমপান ছাড়ার ১৩ উপায় জেনে নিন।
- প্রতিদিন ১ গ্লাস অ্যালকোহল খেলেও ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
অ্যালকোহল ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বাড়ায়, যা ক্যান্সার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
সন্তান জন্মদান ও স্তন্যদান
- ৩০ বছরের আগেই প্রথম সন্তান নেওয়া হলে ঝুঁকি কিছুটা কম।
- স্তন্যদান (ব্রেস্টফিডিং) করলে স্তনের কোষে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।
- WHO অনুসারে, প্রতিটি শিশু কমপক্ষে ৬ মাস বুকের দুধ খাওয়া উচিত।
জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ও হরমোন থেরাপি সাবধানে নিন
- দীর্ঘমেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল গ্রহণ করলে ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে।
- মেনোপজের পর হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (HRT) নিলে তা চিকিৎসকের পরামর্শে নিন।
নিয়মিত স্তন পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং
নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা (BSE)-
- প্রতি মাসে একবার আয়নার সামনে নিজে স্তন পরীক্ষা করুন।
- গাঁট, চামড়ার গঠন, নিপলের পরিবর্তন দেখুন।
চিকিৎসকের দ্বারা ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট পরীক্ষা-
- ৩০ বছর বয়সের পর প্রতি বছর একবার।
- ৪০ পেরুলে বছরে অন্তত ১ বার ম্যামোগ্রাম।
ম্যামোগ্রাম-
- ৪০–৫০ বছরের নারীদের বছরে একবার।
- ৫০+ নারীদের প্রতি ১–২ বছরে স্ক্রিনিং।
বংশগত ঝুঁকি থাকলে জেনেটিক টেস্ট
- পরিবারের কারও যদি ব্রেস্ট বা ওভারিয়ান ক্যান্সার থাকে, তবে BRCA1/BRCA2 জিন মিউটেশন টেস্ট করানো উচিত।
- ঝুঁকি বেশি থাকলে চিকিৎসক প্রতিরোধমূলক সার্জারি বা হরমোন থেরাপির পরামর্শ দিতে পারেন।
মানসিক স্বাস্থ্য ও স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ
- দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ শরীরের হরমোনে প্রভাব ফেলে।
- মেডিটেশন, যোগব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুম স্ট্রেস কমায়।
নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
- প্রজনন স্বাস্থ্য, হরমোন পরিবর্তন, স্তনের যেকোনো অস্বাভাবিকতা হলে চিকিৎসকের কাছে যান।
- সময়মতো চিকিৎসা রোগ প্রতিরোধের অন্যতম মূল চাবিকাঠি।
ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা খরচ
ব্রেস্ট ক্যান্সার একটি দীর্ঘমেয়াদী ও ধাপে ধাপে চিকিৎসা প্রয়োজন হয় এমন রোগ। এর চিকিৎসা খরচ নির্ভর করে:
- রোগের স্টেজ (পর্যায়)
- চিকিৎসা পদ্ধতি (সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ইত্যাদি)
- সরকারি না বেসরকারি হাসপাতাল
- দেশ বা অঞ্চলের ভিন্নতা
- ব্যবহৃত ওষুধ ও প্রযুক্তির মান ইত্যাদির উপর
বাংলাদেশে চিকিৎসা খরচ (আনুমানিক)
ক) সার্জারি:
- Lumpectomy: ৳৫০,০০০ – ৳১,৫০,০০০
- Mastectomy: ৳৭০,০০০ – ৳২,০০,০০০
খ) কেমোথেরাপি:
- প্রতিটি সেশন: ৳১০,০০০ – ৳৩০,০০০
- মোট ৬–৮ সেশন লাগতে পারে
- সব মিলিয়ে: ৳৬০,০০০ – ৳২,৫০,০০০+
গ) রেডিওথেরাপি:
- প্রতিদিন ২০–৩০ দিন পর্যন্ত দেওয়া হয়
- মোট খরচ: ৳৮০,০০০ – ৳২,০০,০০০+
ওষুধ ও হরমোন থেরাপি:
- Tamoxifen বা Letrozole জাতীয় ওষুধ: মাসে ৳৫০০ – ৳৫,০০০
- Trastuzumab (Herceptin): প্রতি ইনজেকশন প্রায় ৳৫০,০০০ – ৳১,০০,০০০
৬–১৭ ডোজ লাগতে পারে!
ঙ) পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও স্ক্যান:
- ম্যামোগ্রাম: ৳২,০০০ – ৳৫,০০০
- বায়োপসি: ৳৫,০০০ – ৳১৫,০০০
- CT/PET Scan: ৳১৫,০০০ – ৳৫০,০০০+
বিদেশে চিকিৎসা (ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর):
- ভারত ₹২–৫ লাখ (৳৩–৮ লাখ)
- থাইল্যান্ড $৮,০০০ – $১৫,০০০ (৳১০–১৫ লাখ)
- সিঙ্গাপুর $১৫,০০০ – $২৫,০০০ (৳২০–৩০ লাখ)
উল্লেখ্য, খরচের মধ্যে থাকে: হাসপাতাল ভাড়া, চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার ও থাকা।